প্লাস্টিক দূষণ: রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহতা বেশি

প্লাস্টিক দূষণ: রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহতা বেশি

সাদিত কবির । রবিবার, ০৭ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১৯:১৫

প্লাস্টিক দূষণে বড় ভূমিকা রাখছে রাজধানী শহর ঢাকা। কারণ এর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং শিল্প কার্যক্রম একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন করছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, ঢাকায় বার্ষিক মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার শহরাঞ্চলের জাতীয় গড় থেকে তিনগুণেরও বেশি, যা বর্তমানে ২২.২৫ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পুরো বাংলাদেশে উৎপন্ন বর্জ্যের ১০ শতাংশ। ঢাকার মোট প্লাস্টিক বর্জ্যের মাত্র ৩৭.২ শতাংশ রিসাইকেল বা অন্য কাজে লাগানো হয়।

বাংলাদেশের তুলনায় ইউরোপের দেশগুলোতে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের গড় ১০০ কেজির বেশি। কিন্তু তারপরও প্লাস্টিক বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ এখন শীর্ষ প্লাস্টিক-দূষিত দেশগুলোর অন্যতম। তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বে ৫ লাখ কোটি টন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর মাত্র ১ শতাংশই পুনর্ব্যবহারের জন্য রিসাইক্লিং করা হয়। ‘পবার’ (পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন) তথ্যমতে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি পলিথিন ব্যাগ জমা হচ্ছে, যেগুলো একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

২০০২ সালে আইন করে সারা দেশে সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় (তবে রেণু পোনা পরিবহন ও পণ্যের মোড়ক হিসেবে একটু মোটা প্লাস্টিকের মোড়ক বৈধ)। আইন থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতা কারোরই ভ্রুক্ষেপ নেই।


দূষণ রুখবে ব্যাকটেরিয়া :
আশার কথা হলো সমস্যার সমাধানে গবেষকরা এক ধরনের ‘সেলফ-ডাইজেস্টিং প্লাস্টিক’ আবিষ্কার করেন, যা ভাগাড়ে পড়লে নিজেই নিজেকে ধ্বংস করতে শুরু করবে।

আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান দিয়েগোর গবেষক হান সল কিম বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতিতে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে পারি। সম্প্রতি পিয়ার-রিভিউড জার্নাল ন্যাচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত হয়েছে তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি। প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার স্পোর যোগ করে গবেষকরা এমন একটি প্লাস্টিক তৈরি করেছেন, যা নিজে নিজেই ধ্বংস হবে।

প্লাস্টিকের ব্যবহার উপযোগী সময়জুড়ে স্পোরগুলো সুপ্ত থাকবে। কিন্তু আবর্জনার কম্পোস্টে থাকা উপাদানের সংস্পর্শে এলেই সেগুলো আবার জীবিত হয়ে উঠবে এবং প্লাস্টিকের বস্তুটি হজম করতে শুরু করবে। পাশাপাশি, এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলো প্লাস্টিকের দৃঢ়তাও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। প্রকল্পের সহ-গবেষক জন পোকরস্কি বলেন, আমাদের প্রক্রিয়াটি প্লাস্টিকের উপকরণগুলো আরও কঠিন করে তোলে। এটি তার ব্যবহার উপযোগী জীবনকাল আরও বাড়িয়ে দেয়।

এরপর যখন সময় শেষ হয়, তখন আমরা এটি পরিবেশ থেকে নির্মূল করতে পারি, তা সে যেভাবেই ফেলা হোক না কেন। তিনি জানান, সেলফ-ডাইজেস্টিং’ প্লাস্টিক নিয়ে এখনো পরীক্ষাগারেই কাজ চলছে। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এটি বাইরের জগতে পা রাখতে পারে।

প্লাস্টিকের সঙ্গে যুক্ত করা ব্যাকটেরিয়াটি হলো ব্যাসিলাস সাবটিলিস। এটি ফুড অ্যাডিক্টিভ এবং প্রোবায়োটিক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহƒত হয়। উল্লেখ্য, প্লাস্টিক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোকে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারড হতে হবে।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading