যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া ৮ ঘণ্টা ধরে রণক্ষেত্র, গুলিবিদ্ধ ৬

যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া ৮ ঘণ্টা ধরে রণক্ষেত্র, গুলিবিদ্ধ ৬

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ০১:৪৫

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকার সংঘর্ষ আট ঘণ্টার বেশি সময় পরও থামেনি। রাত ১টার পরও দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। টিয়ার শেল ও গুলি ছোঁড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে সংঘাত শুরু হয়। ওই ঘটনায় ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের মারমুখী অবস্থানের কারণে হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাসহ যেসব জায়গায় বিক্ষুব্ধরা আগুন ধরিয়েছিল সেগুলোও নেভাতে যেতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। সব জ্বলে পুড়ে নিজেই নিভে গেছে আগুন। বিকালে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রাত ১২টার দিকেও দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীগামী সব সড়ক বন্ধ। সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া। যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে আগুন জ্বলছে। তবে ডেমরা সড়ক চালু থাকলেও ব্যাপক যানজট দেখা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত করেছেন স্থানীয় কিছু মানুষ, যারা শিক্ষার্থী নয় বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় দুই বছরের একটি শিশুসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে ইমরান (২৭) নামে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া সিয়াম নামে গলায় গুলিবিদ্ধ আরও এক তরুণকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায় কিছু লোক। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জরুরি বিভাগের দরজায় এসে তারা ‘সিয়াম মারা গেছে’ বলতে বলতে আহত ব্যক্তিকে না নামিয়েই তারা গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, একজন আহত ব্যক্তিকে নিয়ে কিছু লোক এসেছিল। তারা আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে না নামিয়েই চলে গেছেন। ওই ব্যক্তি মারা গেছেন কী না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ সদস্যরা গভীর রাতে সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রচুর পরিমাণে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ছুঁড়েও বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

বিক্ষুব্ধরাও জায়গায় জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে, ইট পাটকেল ছুড়ে জবাব দিচ্ছে। তারা সন্ধ্যার পর আগুন দেয় হানিফ ফ্লাইওভারের কাজলা প্রান্তের টোল প্লাজায়। তবে শেষ পর্যন্ত তা নেভাতেও আসতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পোস্তাগোলা ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহীন আলম বলেন, “তারা টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন দিয়েছে। আমরা তো কাছেই যেতে পারছি না। আমরা আগুন নেভাতে গেলে তারা আমাদের মেরে ফেলবে। এজন্য আমরা যাচ্ছি না। আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।” বাহিনীর কর্মীরা পাশের একটি পেট্রোল পাম্পে অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানাচ্ছে, ৫টার পর ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাছে শনির আখড়ায় পুলিশের ওপর ‘একদল লোক’ অতর্কিতে হামলা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত ৯টার পর থেকে ওই এলাকাসহ আশেপাশে ব্যাপক লোকজন জমায়েত হতে থাকে এবং তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করা শুরু করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের এডিসি মো. আলাউদ্দীন বলেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনির আখড়া এলাকায় বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হঠাৎ করে কিছু ‘উচ্ছৃঙ্খল লোক’ এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

এডিসি আলাউদ্দীন বলেন, সংঘাত সৃষ্টির পর শনির আখড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ গেলে ‘হামলাকারী’দের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে সংঘাত চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘাতে পুলিশ ও হামলাকারী ছাড়াও কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন বলে শুনেছেন এডিসি আলাউদ্দীন।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি ইকবাল হোসাইন বলছেন, “শনির আখড়ায় যারা সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে, তারা কেউ শিক্ষার্থী নন। তারা কোটা সংস্কারে দাবিতে এমনটা করেছেন, সেটাও মনে করার কোনো কারণ নেই। ”

যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন বলছেন, পুলিশের ওপর হামলা ছাড়াও হামলাকারীরা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত সাতজন ঢামেক হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে। একজনের মাথায় গুলি লেগেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading