ডিবি হেফাজতে আরও দুই সমন্বয়ক, নতুন কর্মসিূচ
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১২:১০
কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরও দুই সমন্বয়ক– সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অপর তিন সমন্বয়ক।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তাদের (সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ) ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই দু’জনকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দিতে ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে তথ্য জানতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নাশকতায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার নেতাদের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন সমন্বয়কের আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি। সংস্থাটি বলছে, নেতাদের মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর রয়েছেন।
শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তারা হলেন– বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার। শুক্রবার রাতে ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিবিপ্রধান বলেন, ওই তিন শিক্ষার্থী ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছিলেন। তাদের একজনের বাবাও এ বিষয়ে কথা বলেন। কেউ যদি নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নুরসহ আরও কিছু নেতাকে আমরা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা জানিয়েছেন, নাহিদ ও অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে, সেটা আমাদের জানা দরকার। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে অন্যান্য নেতার, বিশেষত মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নুরের কী কথা হয়েছে, সেটা জানার জন্য আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাত কলেজের সমন্বয়ক ইসমাইল সম্রাট বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নিয়ে গেছে তা নয়, তাদের আটক করা হয়েছে। এর আগেও তাদের ধরেছে, পরে আবার ছেড়েও দিয়েছে। তারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে হাসপাতালেই রাখতে পারত। সেখান থেকে তুলে নিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার তো দরকার নেই।
এর আগে ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকা থেকে নাহিদকে তুলে নেওয়া হয়। ২১ জুলাই ভোরে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয় পূর্বাচল এলাকায়। একই দিন (১৯ জুলাই) আসিফ ও বাকেরকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। পাঁচ দিন পর ২৪ জুলাই আসিফকে হাতিরঝিল ও বাকেরকে ধানমন্ডি এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তারা গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার সেখান থেকেই তাদের নিয়ে যায় ডিবির একটি দল। এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তিন সমন্বয়ককে সেফ কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে তিন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ। তারা সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের যেন হয়রানি করা না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি কর্মসূচি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির পাঁচ সমন্বয়ককে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এমন প্রেক্ষাপটে আজ রবিবার সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি ও দেয়াললিখন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন অন্য তিনজন সমন্বয়ক। শনিবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহিন সরকার ও সহসমন্বয়ক রিফাত রশীদ। তারা তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মাসউদ, মাহিন ও রিফাত বলেন, আগামীকালের (রোববার) মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ সব শিক্ষার্থীর মুক্তি, ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত সব দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরশুদিন (কাল) থেকে তাঁরা কঠিন কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রবিবার সারা দেশের দেয়াল দেয়ালে গ্রাফিতি ও দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
ইউডি/এসআই

