‘শিক্ষার্থী ও নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, নির্দেশ আছে প্রধানমন্ত্রীর’

‘শিক্ষার্থী ও নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, নির্দেশ আছে প্রধানমন্ত্রীর’

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১৪:১৫

গণগ্রেপ্তার নয়, ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের ধরা হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি বা সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানি না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে।

এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান দলের সাধারণ সম্পাদক।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে যৌথসভার শুরুতে সংঘাতে নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে এক মিনিট নীলবতা পালন করেন নেতারা।

গ্রেপ্তার নিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি নয়, বরং ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে কোনো নিরীহ ব্যক্তি বা সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানি না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে।’

‘গণগ্রেপ্তারের নামে কেউ যাতে গ্রেপ্তার না হয়- সে ব্যাপারে আমাদেরও সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের। কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে কোনো অবস্থায় হয়রানি করা যাবে না। গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি না হয়’, বলেন তিনি।

এ সময় বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের কাছে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুলের কাছে সবাই নিরপরাধী। তাহলে প্রশ্ন, এই ধ্বংসযজ্ঞ চালালো কারা? কারা অগ্নিসংযোগ করলো? কারা রাষ্ট্রের সম্পদ ভস্মীভূত করলো? আজকে বাংলাদেশে যে নারকীয় ধ্বংষযজ্ঞ চালানো হয়েছে এগুলো কারা করেছে? আজকে কথায় কথায় সরকার ও আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হয়।’

‘আমি পরিস্কার বলতে চাই, এই ঘটনাপ্রবাহে আমরা আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের কর্মীরা আমরা আক্রান্ত। আমরা আক্রমণকারী ছিলাম না। এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে আক্রান্তকারীদের।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেতু ভবন, বিটিভি ভবন, মেট্রারেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হানিফ ফ্লাইওভারের দিকে তাকান, ২৩৫টি থানা ও পুলিশবক্স ভস্মীভূত হয়েছে। ফখরুল সাহেব এগুলো কি আমরা করেছি? কারা এই নারকীয় বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে? তাদের সাথে আপনি জাতীয় ঐক্য করছেন! স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না। নরসিংদী কারাগারে অস্ত্র-গুলি কারা নিয়ে গেছে? কোনো জঙ্গি শক্তি? ফখরুল সাহেব আপনাদের দোসর, বন্ধ এজন্য আজকে ইগনোর করছেন।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশ দেখেছে, জাতি দেখেছে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে কি করেছেন। ছয় তলা ভবন থেকে কিভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কর্মীদের হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফখরুল সাহেব এগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে কারা হাইজ্যাক করলো। কারা শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলো। কারা এই আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফখরুল সাহেব সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে।

‘কোথা থেকে নির্দেশ এসেছে, উসকানি এসেছে, কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, অর্থ যুগিয়েছেন, কোন কৌশলে অর্থ পাঠিয়েছেন, সবই আমরা জানি। সব ষড়যন্ত্রই এখন জাতির কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আজকে মিথ্যার বেসাতি করে, আবল-তাবল বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ এখন আর নেই’, বলেন তিনি।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরসহ সব মহানগর, সব জেলা সদর, সব উপজেলা, থানা-ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীদের কারফিউ মেনে চলার আহ্বান জানান এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

গুজব-আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এমন কিছু পেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আইনবিষক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading