নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে বেআইনী বলছে জামায়াত
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ০২:১৫
কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ ঘটনা থেকে দেশ ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরাতে সরকার ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সিদ্ধান্তকে হঠকারী, এখতিয়ারবহির্ভূত, বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত সোমবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়।
বিবৃতিতে জামায়াতের আমির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ১৪-দলীয় জোট একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। একটি রাজনৈতিক দল বা জোট অন্য একটি রাজনৈতিক দলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। দেশের আইন ও সংবিধান কাউকে এ এখতিয়ার দেয়নি। তিনি বলেন, কোনো দল বা জোট অন্য কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার ধারা চালু হলে এক দল অন্য দলকে নিষিদ্ধ করতে থাকবে। তখন রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বলে কিছু থাকবে না।
জামায়াতকে একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াতের সঙ্গে বসে অতীতে আওয়ামী লীগ অনেক আন্দোলন করেছে। এ রকম একটি গণতান্ত্রিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত।
বিবৃতিতে জামায়াতের আমির আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীর ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম জুলুম চালানো হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের সাজানো মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য নেতা-কর্মীকে চিরবিদায় করে দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য নেতা-কর্মীকে পঙ্গু এবং গুম করা হয়েছে। এত জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও জামায়াতকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। তিনি বলেন, অতীতে যত অঘটন ঘটেছে, কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই জামায়াতকে দোষারোপ করা হয়েছে। পরে প্রমাণিত হয়েছে জামায়াত কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। বরং দেখা গেছে, ওই সব ঘটনার সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীই জড়িত। এবারও সরকারের সব অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
ইউডি/এসআই

