ছয় সমন্বয়কের পরিবারে দুশ্চিন্তা

ছয় সমন্বয়কের পরিবারে দুশ্চিন্তা

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০২:০০

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজত থেকে মুক্তি না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে তাদের পরিবার।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে প্রথমে তিনজনকে গত শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তুলে আনা হয়। তারা হলেন- নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের। তাদের মধ্যে নাহিদ ও আসিফ সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকের তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরদিন সন্ধ্যায় সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে আসে ডিবি। এরপর রোববার ভোরে মিরপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তুলে আনা হয় নুসরাত তাবাসসুমকে। এরপর থেকে তারা মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আছেন। ডিবির দাবি, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

নাহিদ ইসলামের মা মমতাজ নাহার বলেন, আমি দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের নিয়ে গিয়ে ছেলেরা ভালো আছেন দেখালেও পরে কী হচ্ছে, সেটা তো আমরা জানতে পারছি না। তাই ছেলে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা কাটছে না।

মমতাজ নাহার আরও বলেন, তার ছেলে নাহিদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। ওখান থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছেলের শরীরে ক্ষত রয়েছে। তার চিকিৎসা দরকার। ডিবি হেফাজতে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) ডিবি কার্যালয়ে যাব। হাসপাতালের দেওয়া ওষুধপত্র অনুযায়ী ওষুধ কিনে দিয়ে আসব।

বুধবার ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করতে পারেননি আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের বাবা মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বুধবার গিয়েছিলেন সেখানে। তিনি বলেন, লুঙ্গি পরা অবস্থায় তার ছেলেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ছেলের জন্য একটি গেঞ্জি ও প্যান্ট নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে ডিবির অভ্যর্থনাকক্ষে কাপড়গুলো রেখে এসেছি।

কবে ছেলে মুক্তি পেতে পারেন, সেটা জানতে ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বিল্লাল হোসেন। ডিবির কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন, আদালতের আদেশ ছাড়া তার ছেলে ছাড়া পাওয়ার সুযোগ নেই।

গত ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় এক বন্ধুর বাসা থেকে নাহিদকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এক দিন পর পূর্বাচল এলাকায় তাকে ফেলে যাওয়া হয়। নাহিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল আঘাতের চিহ্ন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপর দুই সমন্বয়ক আসিফ ও বাকেরকেও একই দিন তুলে নেওয়া হয়েছিল। পাঁচ দিন পর তাদের দুজনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় যেখান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে ফেলে যাওয়া হয়। এরপর থেকে আসিফও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বাকেরও।

ইউডি/এসআই

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading