হানিয়া হত্যাকাণ্ড: যুদ্ধবিরতির কী হবে?

হানিয়া হত্যাকাণ্ড: যুদ্ধবিরতির কী হবে?

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০২:৩০

ইরানে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া। তিনি ছিলেন গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক শাখার প্রধান। এক সময় তিনি ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

হামাসের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কড়া ভাষায় কথা বলা নেতা ছিলেন এই হানিয়া। যদিও অনেক কূটনীতিকই হামাসের অন্যান্য কট্টরপন্থি নেতাদের তুলনায় হানিয়াকে অনেক বেশি মধ্যপন্থি বলেই মনে করতেন। কাতারের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধ অবসানের যে আলোচনা হয়েছে, তার পক্ষে কাজ করছিলেন হানিয়া।

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তেহরানে যে বাড়িতে হানিয়া অবস্থান করছিলেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর বুধবার (৩১ জুলাই) জানায় হামাস। যদিও ইসরায়েল এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি কিংবা এ নিয়ে কোনও মন্তব্যও করেনি।

তবে তার ওপর হামলার ঘটনার বিস্তারিত একটু একটু করে সামনে আসছে। আর এর প্রেক্ষাপটে হানিয়া হত্যার রাজনৈতিক পরিণতি কি হতে চলেছে সেটিও নজরে আসছে। হামাসের এই নেতার মৃত্যুতে গাজায় যুদ্ধবিরতি করা নিয়ে নড়বড়ে যে প্রচেষ্টা চলে আসছে, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

ইসমাইল হানিয়া হয়ত গাজায় মাঠ পর্যায়ে প্রতিদিনের সব ঘটনা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন না, সেটি দেখার দায়িত্ব ছিল সামরিক কামান্ডার ইয়াহিয়া সিনাওয়ারের। কিন্তু হামাসের নির্বাসিত নেতা হিসাবে তিনি ছিলেন কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচক।

২০১৭ সালে হানিয়া হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচিত হন। তখনই গাজা ছাড়েন হানিয়া। অবরুদ্ধ গাজায় ভ্রমণ বিধিনিষেধ এড়াতে তিনি তখন থেকেই তুরস্ক এবং কাতারের দোহায় যাতায়াত করতে শুরু করেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে নানা পক্ষের সঙ্গে তিনি আলোচনা করতে শুরু করেন কিংবা হামাস মিত্র ইরানের সঙ্গেও আলোচনায় অংশ নেন। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আদিব জিয়াদেহ বলেছেন, আরব দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে হামাসের হয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন হানিয়া।

তিনি জনসম্মুক্ষে কড়া ভাষায় কথা বললেও আরব দেশগুলোর কূটনীতিক এবং কর্মকর্তারা মনে করেন, গাজার ভেতরে হামাসের অন্যান্য নেতাদের তুলনায় হানিয়া তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী ছিলেন। হামাসের সশস্ত্র শাখার নেতাদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল।

একজন সুন্নি মুসলমান হয়েও হানিয়া ইরানের শিয়া নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। হামাসের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য শুরু হওয়া আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন হানিয়া।

কাতার ও মিশর গাজায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেও যে সময়টিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই হানিয়ার মৃত্যু এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি হামাসের জন্যও বড় ধাক্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা শিগগিরই সফল হতে পারে। যদিও গত সপ্তাহে রোমে একটি বৈঠকের পরও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।

আর এখন ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর পর গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় আশু অগ্রগতি দেখাটা আরও অনেক কঠিন বৈকি।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading