বিসিএসআইআর স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পদত্যাগ দাবি
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ২৩:৪৫
রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন বিসিএসআইআর স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. ইদ্রিস আলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা। সীমাহীন অনিয়ম, নিয়োগবাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সচিবালয় ভবনের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, অবিভাবক, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. ইদ্রিস আলী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সীমাহীন দু:শাসন ও আর্থিক দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে গত ৮ জুলাই অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেন। এরপর থেকেই ইদ্রিস আলী শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। চলমান অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে গত ৮ আগস্ট শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙ্চুর চালায়। তাকে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানালেও ওই দিন থেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন। মূলত তখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট ওই প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও বিসিএসআইআর প্রশাসনকে অবহিত করে ইদ্রিস আলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির ৭৭ জন শিক্ষক। শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দায়িত্ব দেয়া হয় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতি) মাসুদা মণ্ডলকে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিপুল টাকার বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়েছেন। যার নথিপত্র তুলে ধরা হয় বিক্ষোভ সমাবেশে। এমপিওভুক্তি, টাইম স্কেল, বি.এড স্কেলসহ বিভিন্ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইদ্রিস আলী অনৈতিকভাবে ঘুষ প্রদানে সুবিধাভোগীদের বাধ্য করেছেন। এছাড়া দারোয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগেও বিপুল সংখ্যক অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয় সমাবেশে।
জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো: গোলজার বলেন, আমরা বহুদিন ধরেই এই স্বৈরাচারী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ২০০৯ সাল থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার-জুলুম করে আসছেন। তিনি বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান (বিসিএসআইআর স্কুল ও কলেজেরও চেয়ারম্যান) আফতাব আলী শেখের যোগসাজশে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। সাধারণ শিক্ষকরা জানেনও না কবে কমিটি গঠন হয় কখন মেয়াদ শেষ হয়।
সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা) মো. জাফর উল্লাহ বলেন, সিনিয়র স্কেলের জন্য তিনি ২৬ জন শিক্ষকের কাছে ঘুষ নিয়ে বেতন বাড়াননি। তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষকদের মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছেন। তিনি একজন ভুয়া ডিগ্রিধারী প্রধান শিক্ষক। ছাত্ররা আন্দোলন করে তার অফিস কক্ষে তালা দিয়ে রেখেছে। আমরা তার পদত্যাগ দাবিতে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা এক হয়েছি। আমরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চাই।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), জেলা ও থানা শিক্ষা অফিসে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীর পদত্যাগের দাবিতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে।
এ বিষয়ে জানতে মো. ইদ্রিস আলীর ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে, বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান ড. মো. আফতাব আলী শেখের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউডি/কেএস

