ভিড় বাড়ছে বিপণিবিতানে, গতি ফিরছে ব্যবসায়

ভিড় বাড়ছে বিপণিবিতানে, গতি ফিরছে ব্যবসায়

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ২৩: ০০

কোটা সংস্কার আন্দোলন, অবরোধ ও কারফিউ ঘিরে দীর্ঘ সময় কার্যত অচল ছিল রাজধানী ঢাকা। এ সময় আতঙ্কে বন্ধ ছিল ঢাকার বেশিরভাগ মার্কেট ও বিপণিবিতান। সরকারের পতনের পর দোকানপাট খুললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় ক্রেতা পাননি ব্যবসায়ীরা। অস্থিরতা কমায় ব্যবসার অচলাবস্থা কিছুটা কাটতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর নিউমার্কেট ও বসুন্ধরা শপিং সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় দোকানগুলোতে ক্রেতা সমাগম বাড়তে শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরদিন (৯ আগস্ট) থেকে নিউ মার্কেটসহ এর আশেপাশের নূরজাহান শপিং কমপ্লেক্স, গ্লোব শপিং সেন্টার ও চাঁদনি চক মার্কেট খুলতে শুরু করেছে। রাজধানীর বড় দুই শপিংমল বসুন্ধরা শপিং সেন্টার ও যমুনা ফিচার পার্কেও ব্যস্ততা ফিরেছে দোকানিদের। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে বেচাবিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার দুপুরে বসুন্ধরা শপিং সেন্টার পার্ক ঘুরে দেখা যায়, শপিংমলটির সব দোকানপাটই খুলেছে। ভয়-শঙ্কা কাটিয়ে মার্কেটে ফিরতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও গত এক মাসের অলসতা কাটিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন ক্রেতাদের সেবা দিতে।

ফ্যাশন হাউস এমব্রেলার বিক্রেতা মো: নাসির বলেন, গত এক মাস ধরে আমাদের শোরুমে ছাড় চলছে। কিন্তু ছাড়েও ব্যবসা হয়নি ক্রেতা না থাকায়। তবে এখন মানুষজন আসছেন। অনেকেই এখন ঘুরতে বের হচ্ছেন। অনেকদিন পর গতকাল (শুক্রবার) বিক্রির হার অনেকটাই বেড়েছে।

গত ৭ জুলাই থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হলে এর প্রভাব পড়ে নিউমার্কেট এলাকার মার্কেটগুলোতে। নিউমার্কেট থানার আওতাধীন সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করার ফলে এই এলাকায় স্থবির পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনের কারণে ক্রেতারা আতঙ্কে এই এলাকার মার্কেটে কম এসেছেন। এরপর কারফিউ, সরকার পতন, থানা ছেড়ে পুলিশ চলে যাওয়াসহ নিরাপত্তাহীনতায় ক্রেতারা ঘর থেকে বের হননি। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর শপিং হাবখ্যাত নিউমার্কেট এলাকায়।

এদিন সকালে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতারা মার্কেটে আসছেন। খোলা হয়েছে প্রায় বেশিরভাগ দোকান। ফুটপাতেও আগের মতো দোকান বসতে শুরু করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক আছে।

নুরজাহান মার্কেটে মেয়েদের পোশাকের দোকান এফএম পয়েন্টের স্বত্বাধিকারি মো: পলাশ বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। দোকানের খরচ তো উঠেইনি, পকেট খরচও তুলতে পারিনি কোনো কোনো দিন। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ক্রেতারাও আসছেন। তবে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও, এখনও আগের মতো জমেনি। সবকিছু ঠিক থাকলে সামনের সপ্তাহে ব্যবসা আরও জমবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির (বিডিএমএস) সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অস্থিরতার কারণে প্রায় এক মাস ধরে ব্যবসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতি কমাতে আমরা কারফিউর সময়েও দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় ব্যবসা হয়নি। এরপর আবারও দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকানভাড়া দিতে পারছেন না, কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকলে শাড়িতে দাগ পড়ে যায়, জুতার সোল খুলে যায় এমনকি চালেও ছত্রাক পড়ে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে আবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করি, ব্যবসায়ীরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading