সাংবাদিক নির্যাতন: সম্পাদক হাশেম রেজা আটক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০২:২৭
বেতন না দিয়ে সাংবাদিকদের নির্যাতন এবং অফিসে আটকে রাখার অভিযোগে দৈনিক ‘আমার সংবাদ’ সম্পাদক ও প্রকাশক হাশেম রেজাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে পত্রিকাটির অফিস থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী।
জানা যায়, কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল নোমান এক সময়ে আমার সংবাদে কাজ করতেন। তিনি তার পুরোনো বেতন চাওয়ার কারণে তার ওপর হামলা চালায় আমার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাশেম রেজা। এসময় নোমানসহ আরো কয়েক জনকে জিম্মি করে রাখা হয়। এমনিকি তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখেন প্রতিষ্ঠানের এডমিন আজাদ হোসেন।
এরপর তারা বাইরে অন্যদের কাছে সাহায্য চাইলে তারা সেনাবাহিনীকে খবর দেন। পরে সেনাবাহিনী এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। আর হাশেম রেজাকে আটক করে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসেম রেজাকে নিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় সেখানে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। তারা ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাসেম রেজা তেমন পড়ালেখা জানেন না। তিনি কেবল স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল করে তিনি সম্পাদক হয়েছেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, হাসেম রেজার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুরুলগাজী গ্রামে। এই গ্রামের আরেকজন সাংবাদিক নূর হাকিম। তিনি সকালের সময়’র সম্পাদক ও প্রকাশক। নূর হাকিম এর আগে জানিয়েছেন, হাসেম রেজা এক সময় তার পিয়ন ছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত ধুরন্দর।
জানা গেছে, হাসেম রেজা গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। তিনি যুবলীগের রাজনীতি করতেন। তবে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি এলাকায় যেতেন হেলিকপ্টারে চড়ে। এলাকায় গেলে নিতেন পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তা। হাসেম রেজা দাবি করেন, সদ্য চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান তার মামা শ্বশুর। এ কারণে স্থানীয় থানা-পুলিশকে তটস্থ রাখতেন তিনি। করতেন খবরদারি। ওসির কাছে নানা বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতেন। ওনাকে ধরলেন কেন; ওই মামলা নিলেন কেন- এমন খবরদারি করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বেশ অস্বস্তি ছিল। পরে তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।
এখানেই শেষ নয়। এর আগে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাসেম রেজা বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা করিয়ে হয়রানি করেন। মনির আমার সংবাদ-এ কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। বকেয়া টাকায় চাওয়ায় তাকে এই হয়রানি করা হয়। এছাড়া লতিফ রানা নামে এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করিয়ে হয়রানি করেন। বকেয়া বেতন চাওয়ায় তিনি লতিফ রানার বিরুদ্ধে এই মামলা করিয়েছিলেন।
লতিফ রানা বর্তমানে সকালের সময়-এ কর্মরত। তিনি জানান, বকেয়া বেতন চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছিলেন হাসেম রেজা। পরে সেগুলো তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি পাওনা টাকা পেয়েছিলেন।
এক সময়ের পিয়ন হাসেম রেজা কিভাবে এতো টাকার মালিক হলেন; তা নিয়ে প্রশ্ন করেন অনেকে। তার মালিকানায় আরেকটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর নাম ডেইলি পোস্ট। এটির সম্পাদক ও প্রকাশক তিনি। এইচ আর (হাসেম রেজা) গ্রুপ অব কোম্পানিরও তিনি মালিক বলে জানা গেছে। তবে এই শিল্প গ্রুপে কী কী প্রতিষ্ঠান আছে; তা জানা যায়নি।
ইউডি/ এসআই

