আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: বড় ধরনের বিপ্লবের নেপথ্যে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: বড় ধরনের বিপ্লবের নেপথ্যে

আশিকুর রহমান। শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৬:১০

সাম্প্রতিককালে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জগতে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটে গেছে। অনেক কাজই এখন একটি যন্ত্র মানুষে চেয়েও দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে করে দিতে পারে। হঠাৎ করেই এই অগ্রগতির কারণ কী? কিভাবে এটি সম্ভব হলো? গুগলের একজন টেকনিক্যাল ম্যানেজার তানজিম আহসান গণমাধ্যমকে বলছেন সুপার কম্পিউটিং পাওয়ারের কারণে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। এক সময় ধারণা করা হতো- একই ধরনের যেসব কাজ বারবার করতে হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পক্ষে শুধু সেসব কাজই করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি মানুষের করে দেওয়া প্রোগ্রামের বাইরে যেতে পারবে না। কিন্তু চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এখন অনেক কিছুই করা সম্ভব যা মানুষ ভাবতেও পারেনি। চ্যাটজিপিটির সাথে রসিকতা করলে সে বুঝতে পারে। শুধু তাই নয়, ব্যবহারের সাথে সাথে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন নতুন জিনিস শিখতেও পারে এবং এর মধ্য দিয়ে সে নিজেকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে থাকে।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন বর্তমানে আমরা যেভাবে জীবন-যাপন করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তা নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে – ভালো বা মন্দ উভয় অর্থেই। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জগত ও পৃথিবীর নেতৃত্ব যাদের হাতে তারা এর জন্য কতোটা প্রস্তুত? প্রযুক্তিবিদরা বলছেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আগামীতে পৃথিবীকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তি তৈরিতে কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, তার ওপর। তারা বলছেন এ ধরনের প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার বন্ধে কর্তৃপক্ষকে আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন গণমাধ্যমকে বলছেন, সারা বিশ্বেই এআই প্রযুক্তি এখন স্পর্শকাতর বিষয়। কিন্তু সেই বিচারে এর সঙ্গে যেসব নেতারা যুক্ত তারা এর জন্যে প্রস্তুত নন। তারা রিয়্যাক্ট করছে কিন্তু এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিতে হবে তার জন্য তারা তৈরি নয়। অনেক দেশ তো বুঝতেই পারছে না এই পরিস্থিতির সঙ্গে তারা কিভাবে নিজেদের মানিয়ে নেবে।

বিশ্বব্যাপী বছরে জিডিপি ১.২ % বৃদ্ধির সম্ভাবনা: ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষা অনুসারে বলা যায় যে, ২০৩০ সালের দিকে ওপেন এআই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উৎপাদন ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে পারে। এই অনুমানের উপর ভিত্তি করে যে, অও ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী জিডিপি ১.২ % বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক, একই সমীক্ষাটি চাকরির স্থানচ্যুতির সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছে এবং পরামর্শ দেয় যে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন কর্মী অও ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে পেশা পরিবর্তন করবে বা নতুন দক্ষতা অর্জন করতে বাধ্য হবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, এ আই ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৯৭ মিলিয়ন নতুন চাকরি তৈরি করবে, যদিও কিছু বিদ্যমান চাকরি স্থানচ্যুত হতে পারে। উপরন্তু, অও ব্যবসাগুলোকে নতুন বাজারে প্রসারিত করতে এবং নতুন পণ্য বিকাশে সাহায্য করবে, যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটবে। অও এর সাথে সহযোগিতা কর্মক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ এটি আরও ভাল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, সৃজনশীলতা এবং সহানুভূতি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading