সাইবার নিরাপত্তা আইন : বাতিল কিংবা সংস্কারের সুপারিশ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:০৫
পারভেজ আহমেদ: বাংলাদেশের তিনটি ত্রুটিপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা আইনের বাতিল অথবা সংস্কার চেয়েছে আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (এবিএ)। তিনটি আইনের মধ্যে রয়েছে- সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ), ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে (আইসিটি অ্যাক্ট)। আইনজীবীদের আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি তিনটি আইন সংস্কারে কিছু সুপারিশও করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংস্থাটি ত্রুটিপূর্ণ তিনটি আইন সংস্কার অথবা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে নিপীড়নমূলক উল্লিখিত আইনগুলো নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: ফ্লড সাইবারক্রাইম রিজিম রিকোয়ারস রিপিল অর রিফর্ম, সেপ্টেম্বর ২০২৪’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ওই প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এসব আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
সুপারিশে বলা হয়েছে- সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। বিকল্প হিসেবে আইনটির বিশেষ করে ২১, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারায় মৌলিক সংশোধন আনতে পারে। এছাড়া যথোপযুক্ত হলে মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা অবশিষ্ট মামলাগুলো খারিজ করতে পারে সরকার।
সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী সনদে (সিএটি) বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যেসব ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দ্রæত ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সরকারের তদন্ত করা উচিত।
আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাকস্বাধীনতা চর্চার জন্য মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেই ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজার ৪৩৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ২৮৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হয়রানির কাজেই হয়েছে ব্যবহার : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, এটি একটি কালা কানুন। তাই আমরা এ আইনটি বাতিলের দাবি করেছি শুরু থেকেই। এ আইনের উদ্দেশ্য হলো-বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও ভিন্নমতের মানুষকে দমন। এ আইনটি হয়রানির কাজেই সরকার ও সরকারের লোকজন ব্যবহার করেছে। তার কথায়, আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। তবে আগের মামলাগুলো কী হবে। সবই কী প্রত্যাহার হবে, না যাচাই-বাছাই করা হবে তার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। আর যদি আইন ও সাংবিধানিক সংস্কার হয়, তাহলে একসঙ্গেই করা যায়। কিন্তু সাইবার অপরাধ দমনে নগারিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন লাগবে। আর্টিক্যাল ১৯ বলছে-শুধু ২০২১ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশে যত মামলা হয়েছে, তার মধ্যে ৪০ শতাংশ মামলাই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে কট‚ক্তির কারণে। ফেসবুকে পোস্ট বা মন্তব্য করার দায়ে এ আইনে মামলা হয়েছে ৯০৮টি। এই আইনে বাকি ৫২৮টি মামলা হয়েছে ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে।
ইউডি/এজেএস

