সাইবার নিরাপত্তা আইন: সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:১০
সাদিত কবির: ডিজিটাল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সম্প্রতি একটি ওয়েবিনারে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫ বছরের চিত্র নিয়ে কঠিন পরীক্ষা’ নামে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ১ হাজার ৪৩৬টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংবাদপত্র, আদালতের নথি, আইনজীবী, ভুক্তভোগী ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা হয়েছে। এগুলোকে এ গবেষণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন করা সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ও আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন। ওয়েবিনারে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তিনি তুলে ধরেন। তাতে দেখা যায়, পাঁচ বছরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ৪ হাজার ৫২০ জন অভিযুক্ত এবং ১ হাজার ৫৪৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় মাসে গড়ে মামলা হয়েছে প্রায় ২৪টি এবং গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ২৬ জন।
অভিযুক্তের মধ্যে ৩২ শতাংশের বেশি রাজনীতিবিদ, ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ সাংবাদিক। এ ছাড়া অভিযোগকারীর প্রায় ৭৮ শতাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এসব মামলায় শাস্তি হয়েছে খুবই কম। তারপরও জেলে থাকতে হয়। হয়রানির শিকার হতে হয়। এ মামলার আসামি লেখক মুশতাক আহমেদ ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে কারাগারেই মারা যান। আলী রীয়াজ বলেন, মামলায় দেশের কোনো জেলা বাদ যায়নি। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ঢাকায়। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ২৮ শিশুকে অভিযুক্ত করা হয় এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্বেগ বাড়িয়েছে যেসব বিষয়: গবেষণায় তিনি কিছু উদ্বেগজনক বিষয় তুলে ধরেন। এগুলো হলো স্বচ্ছতার অভাব, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, বিচার-পূর্ব আটক, শিশু-কিশোরদের আইনের আওতায় আনা এবং আইনের স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার। গবেষণায় সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে আটক ব্যক্তিদের জামিন এবং গত পাঁচ বছরে এই আইনের অধীনে করা মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা। সাংবাদিকদের অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, এখন সাংবাদিকতার অনেক চ্যালেঞ্জ। মালিকানা, নিজেদের দলীয়করণ এবং ডিএসএর মতো আইন। ডিএসএ শুধু সাংবাদিকতার ওপরই প্রভাব ফেলছে না। এটা একাডেমিক, গবেষণার ওপরও প্রভাব ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা, কোয়ালিশন (জোট) করতে হবে। সেটা না হলে প্রতিকূল পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হবে।
ইউডি/এজেএস

