সাইবার নিরাপত্তা আইন: আইন বিশ্লেষকদের মতে যত সমস্যা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:১৫
রিন্টু হাসান: সাইবার নিরাপত্তা আইনের সমস্যাগুলো নিয়ে আইন বিশ্লেষকরা যে বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছেন তাহলো-আইন ও নীতিমালার অধীনে গঠিত ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির কার্যক্রমের প্রতি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় বা সংস্থাগুলো কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকা, একই বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা করার প্রবণতা, বিচার-পূর্ব কারাবাসের সময় সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতির অনুপস্থিতি, বিচার-পূর্ব কারাবাসকে পরবর্তী সময়ে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা, অপরাধের বিপরীতে ধারাগুলোর শাস্তির বিধান বেশিরভাগ মাত্রাতিরিক্ত, অসম, অনুপাতহীন এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা, সাইবার ট্রাইব্যুনালের আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকা এবং মিথ্যা হয়রানিমূলক কোনও মামলার প্রতিকার আইনে না থাকা।
মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন গণমাধ্যমকে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ছিল অবৈধ এবং বেআইনি, নাগরিকদের অংশগ্রহণবিহীন এই আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং খুব দ্রুত খসড়াটি আইনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনটি জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাø এবং অপরাধমূলক কর্মকণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় সব ধারার সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও অপ্রতুলতা রয়েছে। আইনে অনেক অপরাধের সংকীর্ণ সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এবং অপরাধের অভিপ্রায় সম্পর্কে পর্যাপ্ত নজর রাখা হয়নি। এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত চুক্তির বিকশিত মানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়নি।
মামলা ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশের অবাধ ক্ষমতা: আইন ও সালিশকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, এই আইনটিতে পুলিশকে অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মামলা ও গ্রেফতারের ব্যাপারে। তারা এই আইনের আওতায় অনুভ‚তির কথা বলে যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। আবার যে কেনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশনা বা সম্প্রচার কৌশলে বন্ধ করে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন চেক করতে পারে। এই আইনটি ফিলিপাইনের একটি কালো আইনের কপি পেস্ট। ওই দেশের আদালত তাদের দেশে আইনটি বাতিল করলেও আমাদের দেশে এখনো বহাল আছে। আর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বেশ কিছু ধারা উপধারা আছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে যায়। আমরা আগেও ওই ধারাগুলো বাতিলের দাবি করেছি। এখনো বাতিলের দাবি জানাই। আর্টিক্যাল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মঞ্জুর ই আলম বলেন, আইন সংস্কারের কথা সরকার বলছে। তারা সংবিধান সংস্কারের কথা বলছে। তবে তাদের অগ্রাধিকার কোথায় তা আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। সরকার যে এ আইনটি বাতিল বা সংস্কারের দ্রুত কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি দ্রæত উদ্যোগ চাই। তিনি বলেন, তবে এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। পুরোনো মামলাগুলোর কী হবে। সাইবার অপরাধ দমনের আইন কেমন হবে। সব কিছু ভাবতে হবে। তবে প্রচলিত আইনটি রাখা যাবে না। এটা নিবর্তনমূলক আইন।
ইউডি/এজেএস

