জম্মু-কাশ্মীরে মোদির ‘স্বপ্ন’ ভঙ্গ, প্রত্যাখ্যাত হলো ‘কাশ্মীর নীতি’
আসাদ এফ রহমান। বুধবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:২৫
ইন্ডিয়ার দুই রাজ্য হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। সেই ফলাফল বলছে, হরিয়ানায় জিতলেও জম্মু-কাশ্মীরে পরাজিত হয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। পাঁচ বছর ধরে নানা চেষ্টা সত্তে¡ও সেখানে ক্ষমতায় আসতে পারল না কেন্দ্রের শাসক দল। ফলে, সেখানে নরেন্দ্র মোদির ‘কাশ্মীর নীতি’ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হলো। মুসলিম প্রধান এই রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি)। ক্ষমতায় আসতে চলেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এসি), কংগ্রেস ও সিপিএমের জোট। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভার ৯০টি আসনের মধ্যে ৪২টি আসন জিতেছে ফারুক আবদুল্লাহ এবং তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল জেকেএনসি। বিজেপি পেয়েছে ২৯টি আসন এবং কংগ্রেস ৬ আসনে জয় পেয়েছে। বাকি আসনে জয়ী হয়েছে অন্যরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, জম্মু-কাশ্মীরে প্রয়োজনীয় ৪৬টি আসনে জয় না পেলেও সরকার গঠনে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না ন্যাশনার কনফারেন্সকে। কারণ জেকেএনসি এবং কংগ্রেস উভয়ই বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’র শরিক দল।
অন্যদিকে, হরিয়ানায় ৯০ টি আসনের মধ্যে ৪৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৪৬টি আসন। এই রাজ্যে কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৩৬টি আসনে, বাকি ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে অন্যান্য দল। বুথফেরত জরিপগুলো কংগ্রেসকে আশা দেখালেও রাজ্যের মানুষ শেষ পর্যন্ত ভরসা রেখেছে বিজেপিতেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদীকে চিন্তায় রাখবে জম্মু-কাশ্মীরের ব্যর্থতা। প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে তার কাশ্মীর নীতিকে। দেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক স্তরেও। কারণ, এই ভোট এক অর্থে ছিল ৩৭০ অনুচ্ছেদ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণভোট। মোদি এই রাজ্যকে এনসি, কংগ্রেস ও পিডিপির হাত থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তার সেই ইচ্ছাও ব্যর্থ হলো। জম্মু-কাশ্মীরের ভোটের ফল মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি অসাড়ত্ব প্রমাণ করে দিল। সাবেক এই রাজ্যের জনগণ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন, যে লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে বিজেপি এই রাজ্য দ্বিখণ্ডিত করেছিল, সংবিধান প্রদত্ত ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করেছিল, পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি করেছিল, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই অর্থে এই ফল নিশ্চিতভাবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণভোট।
অথচ কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেনি। লোকসভা ও বিধানসভার কেন্দ্রগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে সাতটি আসন বাড়িয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৬টি হিন্দু প্রধান জম্মুতে, মুসলমান প্রধান কাশ্মীর উপত্যকায় মাত্র ১টি। দুই অঞ্চলের আসনের মধ্যে যেখানে ৯ আসনের ফারাক ছিল, তা কমিয়ে করা হয় ৪টি। শুধু তা–ই নয়, আইন করে উপরাজ্যপালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিধানসভায় পাঁচজনকে মনোনীত করার, যাঁদের মধ্যে তিনজন থাকবেন নারী। মন্ত্রিসভাকে এড়িয়ে সেই মনোনয়নের চেষ্টা গতকাল সোমবার রাতেই শুরু হয়, যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দিয়েছে এনসি। এত চেষ্টা সত্তে¡ও এনসি-কংগ্রেস জোট তর্কাতীতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। এই ফল মোদির কাশ্মীর নীতির পরাজয় ছাড়া আর কিছু নয়।
ইউডি/এজেএস

