জম্মু-কাশ্মীরে নানা ফন্দিফিকিরের পরও বিজেপি’র হিসেব-নিকেশ ওলট-পালট
শহীদ রানা। বুধবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:২৮
জম্মু-কাশ্মিরে জেকেএনসি’র ফলাফলকে ‘মহাকাব্যিক’ বলে উল্লেখ করেছেন ইন্ডিয়ার অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক। কারণ ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ইন্ডিয়ার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে নয়াদিল্লিতে আসীন কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মিরজুড়ে বিক্ষোভ ডেকেছিল জেকেএনসি। সে সময় দলটির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলেন। সেই অবস্থা কেটে যাওয়ার পর এ জয়কে জেকেএনসির বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর এই প্রথম জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই নির্বাচন জিততে চেয়েছিল বিজেপি। জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গঠন করা ছিল বিজেপির স্বপ্ন। তাই এই রাজ্যে নিজেদের সুবিধার জন্য রাজ্য দ্বিখøকরণ, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর পুনর্বিন্যাস, হিন্দু এলাকার আসন বৃদ্ধিসহ নানা ফন্দিফিকির করেন নরেন্দ্র মোদি। তাই অনেকে বলছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের এই ভোট নরেন্দ্র মোদির অগ্নিপরীক্ষা। নানা হিসেব নিকেশ ও সমীকরণ মিলিয়ে বিজেপির জন্য কিছুটা আশাও হয়ত তৈরি করতে পেছিলেন তিনি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপিকে হতাশ হতেই হল।
পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে জম্মু-কাশ্মীর? : প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কি জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এখন ইন্ডিয়ার এই রাজ্যের সাধারণের মুখে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো নেই। বরং এমন শঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যেভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেন্দ্রশাসিত দিল্লি উপরাজ্যপাল মারফত শাসিত হচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীর ঠিক সেভাবেই শাসিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পৌরসভার চেয়ারম্যানের বেশি হবে না। কাশ্মীর উপত্যকায় এনসি-কংগ্রেস-সিপিএম জোট এবং পিডিপির প্রাধান্য খর্ব করতে বিজেপি অন্য ব্যবস্থাও করেছিল। যেমন, বিচ্ছিন্নতাবাদী জেলবন্দী সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) গঠনে মদদ, জামায়াতে ইসলামীকে স্বতন্ত্রভাবে ভোটে দাঁড়াতে উৎসাহিত করা এবং গুলাম নবি আজাদ ও আলতাফ বুখারির দলকে খোলামেলা সমর্থন করা।
বিজেপি উপত্যকায় মাত্র ১৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু ফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির প্রতিটি কৌশল উপত্যকার মানুষ ব্যর্থ করেছে। প্রবল সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছে এনসি-কংগ্রেস জোটের পক্ষে। একদা প্রবল প্রতাপান্বিত দল পিডিপিও এই ভোটে চ‚ড়ান্তভাবে ব্যর্থ। বোঝা গেল, ২০১৪ সালের ভোটের পর বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের সরকার গড়া উপত্যকার মানুষ মেনে নেয়নি।
ইউডি/এজেএস

