ইন্ডিয়ায় বিরোধী ঐক্যে ফাটলের পেছনে আপ!
আরাফাত রহমান । বুধবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:৩২
ইন্ডিয়ার হরিয়ানায় কংগ্রেসের আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে কার্যত নিশ্চিত করলেন সে রাজ্যে টানা তিন বার বিজেপির ক্ষমতায় আসা। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমনই কথা বলছেন দেশটির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ভোটের শতাংশের হিসাব বলছে, বহু আসনে নোটার চেয়ে কম ভোট পেলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে নিজের ‘নাক কেটে’ কংগ্রেসের ‘যাত্রাভঙ্গ’ করেছে আপ। তাছাড়া, লোকসভা ভোটের পাঁচ মাসের মধ্যেই ‘ইন্ডিয়া’য় ফাটল ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করেছে বলেও বিরোধীদের অনেকে মনে করছে। বিধানসভা ভোটে দু’দলের জোট হলে বিজেপির জয় সহজ হত না বলেই তাদের ধারণা।
এ ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের চেয়েও আপের উপর ‘চাপ’ বেশি। কারণ, আগামী ফেব্রæয়ারি মাসে দিল্লির বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। সেখানে ২০১৩ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছে আপ। এ বারের লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও দিল্লির সাতটি আসনে বিজেপির জয় ঠেকাতে পারেননি কেজরী। আবগারি মামলায় গ্রেফতারির পরে ছ’মাস তিহাড় জেলে কাটিয়ে হরিয়ানায় প্রচারে নেমেছিলেন আপ প্রধান। কিন্তু দলের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। ঘটনাচক্রে, হরিয়ানার প্রতিবেশি রাজ্য পঞ্জাবে সরকার চালাচ্ছে আপ। দুই রাজ্যের যৌথ রাজধানী চণ্ডীগড়ে কংগ্রেসের সমর্থনেই কেজরীর দলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
কংগ্রেসের ‘পরিণতি’ দেখে কেজরীওয়ালের খোঁচা: আত্মবিশ্বাস ভাল, কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যে একেবারেই ঠিক নয়, হরিয়ানায় কংগ্রেসের ‘পরিণতি’ দেখে সেই খোঁচা দিলেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান তথা দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তিনি বলেন, ভোটের ফল নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ঠিক নয়। আর এটাই শিক্ষণীয় বিষয়।’ সরাসরি নাম না করে কংগ্রেসকে এ ভাবেই কটাক্ষ করলেন কেজরী। বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় এই রাজ্যে কংগ্রেসকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভাল ফল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল কংগ্রেসও। কিন্তু মঙ্গলবার গণনা যত এগিয়েছে, ছবিটা ততই বদলাতে শুরু করে। প্রথমে কংগ্রেসের দিকে পাল্লা ভারী থাকলেও, গণনা যত এগিয়েছে, পাল্লা ভারী হয়েছে বিজেপির।
কিন্তু যে ভাবে বিজেপির পাল্লা ভারী হয়েছে, সেই প্রবণতা দেখেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ছাড়লেন না কেজরী। এ প্রসঙ্গে নাম উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, কোনও নির্বাচনকেই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, হরিয়ানার নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে লড়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আপের। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। তার পরই আলাদা ভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় আপ। ৯০টি আসনের মধ্যে ৮৯টি আসনে প্রার্থী দেয় তারা।
ইউডি/এজেএস

