ডেঙ্গু: বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডেন-২ ধরনে
আরাফাত রহমান। শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪০
গত দুই বছরের মতো এবারও মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গুর ডেন-২ সেরোটাইপ বা ধরনে। তবে গত দুই বছর ঢাকাসহ দেশের মানুষ এই ডেন-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউিট (আইইডিসিআর) এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫০ জন রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করেছে। এ পরীক্ষায় দেখা যায় ৬৯ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গুরোগীর ধরন ছিল ডেন-২। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত¡বিদ ড. কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণের যে চিত্র আমরা দেখছি তা দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে অবস্থা খারাপ। অক্টোবরেও ডেঙ্গু আমাদের ভোগাবে। এখন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটা জোরদার করা দরকার। বৃষ্টি মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করবে। সম্ভাব্য সব প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৩১ হাজার রোগীর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারই (১৮ শতাংশ) শিশু। আর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৩ শিশুর। আক্রান্তদের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক মানুষ বেশি হলেও শিশুর (১৫ বছর পর্যন্ত) সংখ্যা মোট আক্রান্তের ১৮ শতাংশ। চলতি বছরে শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বরে। আর ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৪৮ জন। বাংলাদেশে ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪ এই চার ধরনের ডেঙ্গুতে মানুষ আক্রান্ত হয়। এবার যেসব শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে তাদের ৮৭ শতাংশই ‘ডেন-২’ জিনগত ধরনে আক্রান্ত। বাকি ১৩ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হচ্ছে ‘ডেন-৩’ ধরনে। প্রশ্ন হলো ডেঙ্গু থেকে আমাদের মুক্তি কিভাবে? করোনা মহামারীতেই আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে অবহেলা স্পষ্ট ছিল। তাছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে এর সমাধান কোথায়? এর কার্যকরী সমাধান সম্ভব টিকা প্রয়োগে। শরীরেই যদি প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে তাহলে রোগ হবে না।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একটি ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে সংখ্যা দেয়া হয় তা হাসপাতালের রোগী কেন্দ্রীক। দেশের সবচেয়ে বড় বড় হাসপাতালগুলোর অবস্থান ডিএসসিসিতে হওয়ায় এখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখানো হয়। এরপরও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা নিধনে আমাদের কার্যক্রম সঠিকভাবেই চলছে। তিনি আরও বলেন, এবার কিন্তু একটি অসময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই সময়ে এমন বৃষ্টিপাত গত ৪/৫ বছরে দেখা যায়নি। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে কার্যক্রমে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এরপরও আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, যেটুকু এখন আছে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে দ্রæততম সময়ের মধ্যে এটা সম্পূর্ণ শূণ্যের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবো।
ইউডি/এজেএস

