ডেঙ্গু: উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে, টিকা কতদূর?

ডেঙ্গু: উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে, টিকা কতদূর?

আরাফাত রহমান । শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪২

প্রতি বছর পৃথিবীজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) সতর্ক করে বলেছে যে, চলতি বছরই আক্রান্ত রোগীর হিসেবে ডেঙ্গু রেকর্ড করতে যাচ্ছে। ভয়ংকর ব্যাপার হলো, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। পৃথিবীর প্রায় শতাধিক দেশেই ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। তবে বাংলাদেশে একটু বেশিই বিস্তার করেছে এডিস মশা। ডব্লিওএইচও জানায়, বিশ্বের বৃষ্টিবহুল ও উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে এই রোগ দ্রæত গতিতে ছড়িয়ে পরছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপের উত্তর ও পশ্চিম দিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশার বিস্তার ঘটছে। এই প্রজাতির মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বাহক। অর্থাৎ বিশ্ব উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বজুড়েই মশার উপদ্রব এবং বংশ বিস্তার বাড়ছে যা উদ্বেগজনক। যেহেতু এখন ডেঙ্গু কেবল একটি ঋতু ভিত্তিক সমস্যা না বা এর আক্রান্ত এবং মৃত্যু বাড়ছে সেহেতু টিকাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ। কিন্তু এটাই সবচেয়ে কার্যকরী।

ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী অগ্রগতি হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই ডোজের এই টিকা শুধুমাত্র ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে সানোফি-এ্যাভেন্টিজের তৈরি ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গাভেস্কিয়া’র অনুমোদন দিয়েছে কয়েকটি দেশ। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু রোগের টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের সফল পরীক্ষা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও আমেরিকার ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউভিএম) লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকেরা এই টিকার সফল ট্রায়াল (পরীক্ষা) করেছেন। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবির সহায়তায় ‘টিভি০০৫’ নামে একটি ডেঙ্গু টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালাচ্ছে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। এই পরীক্ষার প্রথম দুই ধাপে তারা সফলতা পেয়েছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল হলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। গণমাধ্যম থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব : ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের ব্যর্থতার কারণ কী? বিশ্লেষকগণ বলছেন, জনগণকে সচেতন করা, বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ডেঙ্গু বিস্তারের স্থান বিনষ্ট করা, জরিমানা করা এবং ওষুধ ছিটিয়ে কার্যক্রমগুলো চোখে পড়েছে। ব্যয় হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। কিন্তু কাজের কাজ যে কিছুই হয় নি তা বোঝা যায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দেখলেই। এখানেও রয়েছে দুর্নীতি, এখানেও রয়েছে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব। তারা বলছেন, যে দেশগুলো ডেঙ্গু মোকাবিলায় সফল হয়েছে সেই দেশগুলো কি করেছে সেসব বিবেচনায় না নিয়ে অকার্যকর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে বেশি। মশার প্রজনন ধ্বংস করা দরকার সবার আগে। ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। আদৌ সেসব ওষুধে মশা কতটুকু মারা যায় সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ টাকা ঠিকই গেছে। ছিল সমন্বয়ের অভাব। এ বছর যদি ডেঙ্গুকে মহামারী হিসেবে না দেখতে চাই তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সব পক্ষের সমন্বয় দরকার।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading