ডেঙ্গু: ঢাকার হাসপাতালের মেঝেও রোগীতে ঠাসা

ডেঙ্গু: ঢাকার হাসপাতালের মেঝেও রোগীতে ঠাসা

আশিকুর রহমান। শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪২

রাজধানীর ১৮টি সরকারি হাসপাতালকে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগী হাজারেরও ওপর। রাজধানীর নির্ধারিত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আট হাজার ২৩৯ ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে শুধু চারটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছে মোট চার হাজার ৯৩৪ রোগী, যা ঢাকার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সরকারি এই বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গতকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার ডেঙ্গু রোগী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ৫০০ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৮৩১ জন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে ৪৪৩ জন ভর্তি হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুরুষ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মেঝে ও করিডর রোগীতে ঠাসা। মেঝেতে পা ফেলা দায়। কোনো জায়গা নেই। ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন নার্স গণমাধ্যমকে জানান, ২০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি আছে ৬২ জন। শয্যার বিপরীতে এই সংখ্যা তিন গুণের বেশি। রোগী সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা ফাঁকা নেই মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রাজধানীর এই তিন হাসপাতালে ভর্তি রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ রোগী ঢাকার বাসিন্দা হলেও বাইরে থেকে আসা ২০ শতাংশের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এসব হাসপাতালে।

চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ করা এখন জরুরি: এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি বলে মনে করছেন সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় সব রোগী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসছে চিকিৎসার জন্য। মাধ্যমিক হাসপাতাল বা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাব্যবস্থা থাকলে এর কয়েক গুণ বেশি রোগীর সেবা দেওয়া যেত। মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কমানো যেত।
মূলত স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা মেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোয় বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সত্যজিৎ সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বর, শরীর ব্যথা বা মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা নিয়ে রোগীরা বেশি আসছে। কিছু রোগী উপসর্গ ছাড়াও আসছে। তবে গত বছরের তুলনায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে মনে হচ্ছে। রোগীরা জ্বর আসার দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে পজিটিভ হলে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading