সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় ইরান কী বিচলিত?
রিন্টু হাসান। রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৬
ইসরায়েলে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শক্তির জানান দিলেও চিরবৈরী ইহুদী রাষ্ট্রটির পাল্টা হামলার মাত্রা যাতে কম কিংবা কার্যত ব্যর্থ হয়, সেজন্য মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। তবে কি ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় ইরান বিচলিত? আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে ইরানের বিচলিত হওয়ার কারণও রয়েছে। ইরানের তেল ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলকে বোঝাতে আমেরিকা সফল হবে কি না, তা নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি ইসরায়েলের ক্রমাগত আক্রমণে এই অঞ্চলে ইরানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়াতেও চিন্তায় ইরান। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য হবে না, এমন কোনো নিশ্চিয়তা গত সপ্তাহ পর্যন্ত মেলেনি ইসরায়েলের কাছ থেকে। ইহুদী দেশটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা কয়েক দশক ধরেই করছিল। দুই বছর আগেও হামলার একটি সামরিক মহড়াও করেছিল দেশটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যায় ইসরায়েল জড়িত বলে ধারণা করা হয়। তাছাড়া প্রায়ই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেসব সাইবার হামলা ঘটনা ঘটে, সেসবের পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকে বলে ধারণা করা হয়। ইসরায়েলের বিখ্যাত স্টাক্সনেট ভাইরাস তো ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, নেতানিয়াহুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি যুদ্ধ চান এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য এ অঞ্চলে আগুন লাগাতে চান। অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে প্রতিনিয়িতই ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে কাতার, এবং সেসব তথ্য আমেরিকাকেও জানানো হয়। কিন্তু আমেরিকার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা আসলে জানি না, ইরান কী করবে।
দেশটির আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল যদি হামলা করে, তার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে। কিন্তু সেটিও নির্ভর করবে ইসরায়েলের হামলা কতটা শক্তিশালী হয় এবং কতটা সুযোগ পাওয়া যাবে, তার ওপর। আরব ক‚টনীতিক বলেছেন, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ইরান মূলত সৌদি আরবের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ওপর আমেরিকার যে প্রভাব, সেটিকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে সংঙ্কট সমাধানে। দুই দেশের কর্মকর্তারা এক মাসের কম সময়ের মধ্যে অন্তত তিনবার বৈঠক করেছেন। গত বুধবারও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি সৌদি আরব সফর করেছেন ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন’ এবং ‘লেবানন ও গাজায় ইহুদী আগ্রাসন বন্ধের’ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে।
সবমিলিয়ে ইসরায়েল কীভাবে ইরানের হামলার জবাব দেয়, সেদিকেই এখন পুরো বিশ্বের নজর। তবে অন্তত ‘ইয়োম কিপ্পুর’ উদযাপনে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইহুদী ধর্মে ‘ইয়োম কিপ্পুর’ দিনটি পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যেদিনে ইহুদী ধর্মের অনুসারীরা তাদের পাপের জন্য ইশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যদিও ইরানে যেকোনো সময় ইসরায়েলের হামলা অসম্ভব না। আর সেটি হলে এদিন দোকানপাট, রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের পরিষেবার পাশাপাশি তেল আবিবের মূল বিমান বন্দর বেন গুরিয়নও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইউডি/এজেএস

