মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন বোচাগঞ্জের চাষিরা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ০৭:০০
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে উৎপাদিত মাল্টা বোচাগঞ্জবাসীর চাহিদা পূরণ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করবে এমনটাই ধারণা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।
মাল্টায় আছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, চর্বিমুক্ত ক্যালরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ক্ষতিকারক জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করার মত অসাধারণ ক্ষমতা। তাই কমবেশী সব পরিবারের শিশুসহ সকলের কাছে মাল্টা একটি জনপ্রিয় ফল।
বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের বাড়েয়া গ্রামের বাসিন্দা কমলা ও মাল্টা চাষী বিশ্বনাথ রায় বলেন, আমার বোচাগঞ্জ উপজেলার ২নং-ইশানিয়া ইউনিয়নের বাড়েয়া গ্রামের কমলা ও মাল্টার বাগানে এখন ব্যাপক ফলন ধরেছে। প্রতিবছই আমি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমলা ও মাল্টা বিক্রি করে থাকেন। প্রতি সিজনে আমার কমলা বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোক জন আসে।

খানপুর গ্রামের মাল্টা চাষী মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, আমি দুই বছর পূর্বে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ২০শতক জমিতে বারি-১ জাতের ৬০টি মাল্টার গাছ রোপন করি। তার পরামর্শ অনুযায়ী গাছের পরিচর্চা শুরু করি। বর্তমানে ফলন ভালো হওয়ায় নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছি এসব মাল্টা। সুস্বাদু এই মাল্টার প্রতি আগ্রহ মানুষের। যার জন্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে খুব সহজেই। আগামীতে আরো ৬০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
১নং নাফানগর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের কৃষক মো. সৈয়দ আলী বলেন, ২০১৭ সালের দিকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বারি-১ জাতের ৬০টি মাল্টার গাছ রোপণ করার জন্য দেয়। এ বছর মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক কৃষক আমার বাগান থেকে গাছের ডাল নিয়ে কলম করে মাল্টা চাষ শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানান, একজন মানুষের প্রতিদিন ২শ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। ফলের চাহিদা পূরণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত দুই বছর পূর্বে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রথম মাল্টা চাষ শুরু করা হয়। বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাল্টা চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। আশা করছি আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে উৎপাদিত মাল্টা বোচাগঞ্জ বাসীর চাহিদা পূরণে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ইউডি/কেএস

