আমেরিকা যেভাবে সঙ্গ দিচ্ছে ইসরায়েলকে
আরেফিন বাঁধন । রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘনীভ‚ত হচ্ছে, ইরান-ইসরাইল সঙ্কট। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও ইসরায়েলের চলছে সম্মুখ যুদ্ধ। অন্যদিকে, গাজায় আগ্রাসন চলছেই। এর মধ্যে, গত ১ অক্টোবর ইসরাইলের ভ‚খন্ড লক্ষ্য করে ইরানের ‘ট্রæ প্রমিস-২’ অভিযানের পর প্রতিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে তেল আবিব। এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশটিতে একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধী ব্যবস্থা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) পাঠায় আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল করতে পাঠিয়েছে ১০০ জন মার্কিন সেনাও। এতে ব্যালিস্টিক মিসাইলেরর বিরুদ্ধে ইসরায়েলেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। একদিকে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে একই সময়ে ইসরায়েলে সেনা মোতায়েন এবং ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে দেশটি। এছাড়াও এটি পরিচালনা করার জন্য ১০০ সৈন্য পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেন অন্য দেশের সক্রিয় যুদ্ধ অঞ্চলে বেআইনিভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন। যদিও এখানে কোনো প্রত্যক্ষ এবং স্পষ্ট মার্কিন স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে নেই। বাস্তবতাকে বাইডেন প্রশাসন এমনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে, যেন ইসরায়েলের আত্মরক্ষায় সতায়তা দিচ্ছে। তবে উল্টো তারা উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ভ‚মিকা রাখছে।
তারা মনে করছেন, আত্মরক্ষার কথা বলেই হোক আর আক্রমণের কথা বলেই হোক, ইসরায়েলকে আমেরিকার অস্ত্র দেওয়ার মানেই হলো উত্তেজনা বাড়ানো। যদিও বাইডেন মুখে যুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকার কথা বলছেন। হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরাইলে শত শত মিসাইল নিক্ষেপ করার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঘোষণা এলো। যদিও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান বার্তা দিয়েছে তারা যেন তাদের সেনাদের ইসরায়েলে না পাঠায়। এতে তাদের সেনারা ঝুঁকিতে পড়বে। পেন্টাগন বলেছে, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে শীর্ষ মিত্র ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এই সামরিক সহায়তা দিয়েছে জো বাইডেনের প্রশাসন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র প্যাট রাইডার বলেছেন, থাড ব্যাটারি মোতায়েন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হবে। থাড ব্যাটারি পরিচালনা করতে সাধারণত অন্তত ১০০ সেনা প্রয়োজন হয়। আমেরিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিন থাড ব্যবস্থা তৈরি ও সুসংহত করে। থাডগুলোকে স্বল্প, মাঝারি ও মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে গুলি করার জন্য ডিজাইন করা। তবে কত দ্রæত এই ব্যবস্থা ইসরায়েলে মোতায়েন করা হবে তা জানাননি মার্কিন কর্মকর্তারা। এর আগে ২০১৯ সালে প্রশিক্ষণ ও বিমান প্রতিরক্ষা মহড়ার জন্য একটি থাড ব্যাটারি ইসরাইলে পাঠিয়েছিল আমেরিকা। ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে থাডের। ছ’টি লঞ্চার বিশিষ্ট হাতিয়ারকে ট্রাকে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। থাডে আছে ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর, রেডিও ও রাডার সরঞ্জাম। এটিকে চালানোর জন্য বিশেষ বাহিনী দরকার হয়।
ইউডি/এজেএস

