পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনাই সরকারের অগ্রাধিকার
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার , ২১ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪০
অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে
আরেফিন বাঁধন : পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কাজ শুরু হয়ে গেছে। টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে; একটি কমিটিও আছে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, তবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কিছু কারিগরি সহায়তা লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ওয়াশিংটন গেছেন। আমরাও যাচ্ছি। সেখান থেকে কিছু সহায়তা আসবে। পাচার হওয়া অর্থ সম্পর্কে অনেক তথ্য লাগবে। রবিবার (২০ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। পাচার হওয়া অর্থ কবে নাগাদ ফেরত আসতে পারে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব টাকা তো অনেক দিন ধরে পাচার হয়েছে; এখন তো আর দিনক্ষণ ধরে বলে দেওয়া সম্ভব নয়, কবে ফেরত আসবে। তিনি শুধু এটুকু বলেন, কাজ শুরু হয়ে গেছে।
ডিম আমদানি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি এসেছে, কিন্তু সবজির বাজারে এখনো আসছে না। এ প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবজি মৌসুমি ফসল। শিগগিরই এ ক্ষেত্রে স্বস্তি আসবে বলে মনে করছি; শুধু সবজি নয়, সবকিছুতেই স্বস্তি আসবে। সরকার খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করছে; টিসিবির মাধ্যমে এই বিক্রয়ের পরিধি আরও বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি কিছু বেসরকারি সংস্থাও কাজ করছে। সরকার তাদের উৎসাহিত করছে।
পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য যারা: প্রসঙ্গত, দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে গঠিত টাস্কফোর্স গত ২৯ সেপ্টেম্বর পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। গভর্নরকে সভাপতি করে গঠন করা এই টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একজন করে উপযুক্ত প্রতিনিধি।
এই টাস্কফোর্সের কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর কাজ হবে, বাংলাদেশ হতে বিদেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা প্রদান, পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধার করা সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তথ্য আহরণ এবং পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সাধন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী টাস্কফোর্সের কার্যাবলী সমন্বয় করবেন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) টাস্কফোর্সকে প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর
নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণমুক্ত হওয়াই লক্ষ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
শহীদ রানা : বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং স্থিতিশীল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। রবিবার (২০ অক্টোবর) একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে রিজার্ভ প্রতি মাসে ১.৩ বিলিয়ন ডলার করে কমে আসছিল, তবে এখন তা একটি ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরছে। তিনি আরও বলেন, সার, বিদ্যুৎ ও আদানি-শেভরনের বকেয়া পাওনার জন্য এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
শুধু গত দুই মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবার বকেয়া ১.৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে অপরিশোধিত বিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এবং মোট রিজার্ভ ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক লক্ষ্য আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ঋণ পরিশোধ করে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণমুক্ত হওয়া। এটি অর্জন করা সম্ভব হলে, বাজারে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বকেয়া পরিশোধ করলে অর্থনীতির উপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ত্বরান্বিত হবে।
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর অবশ্য দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; যা এখন ১০৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। তা সত্তে¡ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ঋণের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ
পুঁজিবাজারের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে সংস্কার
আসাদুজ্জামান সুপ্ত : পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংস্কার। দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই ও যথাযথ সংস্কারের জন্য বিএসইসি’র গঠিত টাস্কফোর্স স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সংস্কারের পরিকল্পনায় টাস্কফোর্সের অধীন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত বেশ কিছু ফোকাস গ্রুপ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। রবিবার (২০ অক্টোবর) ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিএসইসির কমিশনার মোহসিন চৌধুরী, ফারজানা লালারুখ, বিএসইসির কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবুল হোসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আইসিবিকে বিশেষ অবদান রাখতে হবে। পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি জরুরি। মিউচুয়াল ফান্ডকে আরো বেশি জনপ্রিয় করতে এবং এই খাতের উন্নয়ন, বিকাশে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইসিবিকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। আইসিবির উদ্দেশ্যে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজারের টেকসই ও যথাযথ সংস্কার আনয়নে আইসিবি সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভ‚মিকা রাখবে। এ সময় পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ ও নতুন পণ্য আনয়নে আইসিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান আইসিবি কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের বিষয়েও আইসিবি বেশ কিছু কৌশলগত প্রস্তাবনা সভায় তুলে ধরে।
পুঁজিবাজারে অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানে কমিটি গঠন: পুঁজিবাজারে বিগত সময়ের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য একটি ‘অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১৫ বছর মেয়াদে অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মত পুঁজিবাজারেও অবাধ লুটতরাজ সংঘটিত হয়েছে। এ সময়ে অসংখ্য দুর্বল ও প্রায় অস্তিত্বহীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমেই এসব কোম্পানির আসল চেহারা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে এই বাজারে লাগামহীন কারসাজির মাধ্যমে দুর্বল মৌলভিত্তির, জাঙ্ক কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ফ্লোরপ্রাইস আরোপ, সার্কিট ব্রেকারের ঊর্ধ্বসীমা ও নি¤œসীমায় নানা নানা কৃত্রিম ব্যবস্থায় বাজারের এ অবস্থা ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখন ওই কৃত্রিম চেষ্টা না থাকায় ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি, কারসাজির অনিবার্য পরিণতি এখন আগের চেয়েও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিগত সময়ের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য একটি ‘অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিএসইসি গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭টি। রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক এর সংস্কার, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, পুঁজিবাজারে পণ্য ও বাজার উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে কর্মরত পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার, বাজারের বৈচিত্র্য আনতে নতুন পণ্য আনা, সর্বোপরি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারের গঠনমূলক ও টেকসই সংস্কার ইত্যাদি সংস্কারমূলক কার্যক্রমে বিএসইসি কাজ করছে। টাস্কফোর্স কার্যক্রমের বাইরেও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কারে পথনকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে বাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে নানা সুপারিশ উঠে এসেছে। বাজারের স্বার্থে যেসব সুপারিশ গ্রহণযোগ্য, যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তাতে দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে তার সুফল মিলবে মর্মে আশাবাদী সরকার। পুঁজিবাজার তদারকি ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণে সার্ভিলেন্স সিস্টেমের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বিএসইসি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএসইসি। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন, তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ভ্যালুয়েশন, আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুত সম্পাদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে কমিশন। বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি একদিকে যেমন দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থায়নের ফলে এসব বিভিন্ন খাতের অধিকতর বিকাশের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতদ্লক্ষ্যে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫-এর সংস্কারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো যাতে যৌক্তিক মূল্য পায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে যা বহুজাতিক কোম্পানি-সহ ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে সহায়ক হবে।
এতে আরও বলা হয়, দেশের পুঁজিবাজারের আকার বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্পোরেট অনুশীলন করতে হবে। নিয়মিতভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। সরকার আশাবাদী যে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে গভীরতা বৃদ্ধি পাবে ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী হবে। এসব পদক্ষেপের ফলে বড়, মাঝারী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সুফল পাবে। অতীতের দূরবস্থা ও শেয়ার কেলেঙ্কারীর মাধ্যমে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সরকার তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে সুবিধা প্রদান করবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মো. আনোয়ার হোসেন
বিজিএমইএ’র পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাল সরকার
পারভেজ আহমেদ : তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-এর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে সরকার। সেই দায়িত্ব পেয়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রবিবার (২০ অক্টোবর) এক আদেশে বলেছে, প্রশাসক হিসেবে আনোয়ার হোসেনের দায়িত্ব হবে ১২০ দিনের মধ্য একটি ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন করা এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে জানানো। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান কচি অন্তরালে চলে যান। তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার অনুপস্থিতিতে পর্ষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বেশ কিছু বাণিজ্য সংগঠনের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসিয়েছে সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিজিএমইএতেও প্রশাসক বসল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, বিজিএমইএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি নিবন্ধিত বাণিজ্য সংগঠন। সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) পরিচালনা পর্ষদের নিকট পদত্যাগ করেছেন এবং গত ২৪ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠিত হলেও পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সাধারণ সদস্যদের উপস্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা সন্তোষজনক জবাব উপস্থাপন করতে পারেননি। পোশাক শিল্পের চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিজিএমইএর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারছে না। বর্তমান পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়হীনতার কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ১৭(১) অনুযায়ী ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের স্বার্থে সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থায় বিজিএমইএর সকল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও চলমান অস্থিরতা দূর করার লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আদেশে।
তারল্য সংকট মেটাতে ছয় দুর্বল ব্যাংকের পাশে সবল তিন ব্যাংক
সাদিত কবির: তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা ছয় দুর্বল ব্যাংককে মোট ১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে তুলনামূলক সবল তিন ব্যাংক। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে ওই তহবিল যুগিয়েছে সোনালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ডাচ বাংলা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তহবিল স্থানান্তর করা হয়।
এর বাইরে ইসলামী ব্যাংকও তারল্য সহায়তা চেয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ৩৭৫ কোটি টাকা দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক মোট ৩০০ কোটি টাকা পেয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক ১৫০ কোটি টাকা পেয়েছে সোনালী ব্যাংক থেকে। গেøাবাল ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকা দিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। সোনালী ব্যাংক দিয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক পেয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে সোনালী ব্যাংক; ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে ডাচ বাংলা। এক্সিম ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছে, পুরোটাই দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২১ অক্টোবর, ২০২৪ প্রথম পৃষ্ঠা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারী মুখপাত্র ও পরিচালক শাহরিয়ার সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আবেদন যাচাই বাছাই করে সামনে আরও ব্যাংককে এ সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষমতার পালাবদলের পর ব্যাংক খাতের অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম ইসলামী ধারার এসব ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যে ব্যাংকগুলো তারল্য সহায়তা পাচ্ছে, সবগুলোতে ইতোমধ্যে প্রশাসক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি ছয়টি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে গত আগস্টেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব নেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ধারার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে শুরু হয় তারল্য সংকট। পরিস্থিতি এমন হয় যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা ২০ হাজার টাকাই তুলতে পারছিলেন না। এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকেও। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকও তারল্য সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে গভর্নর সবল ব্যাংক থেকে দুর্বল ব্যাংকের নগদ টাকা ঋণ নেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেন। এরপর সবল ১০ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্মতি দেয়।
ইউডি/এজেএস

