পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে
আরেফিন বাঁধন । সোমবার , ২১ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪২
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কাজ শুরু হয়ে গেছে। টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে; একটি কমিটিও আছে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, তবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কিছু কারিগরি সহায়তা লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ওয়াশিংটন গেছেন। আমরাও যাচ্ছি। সেখান থেকে কিছু সহায়তা আসবে। পাচার হওয়া অর্থ সম্পর্কে অনেক তথ্য লাগবে। রবিবার (২০ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। পাচার হওয়া অর্থ কবে নাগাদ ফেরত আসতে পারে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব টাকা তো অনেক দিন ধরে পাচার হয়েছে; এখন তো আর দিনক্ষণ ধরে বলে দেওয়া সম্ভব নয়, কবে ফেরত আসবে। তিনি শুধু এটুকু বলেন, কাজ শুরু হয়ে গেছে।
ডিম আমদানি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি এসেছে, কিন্তু সবজির বাজারে এখনো আসছে না। এ প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবজি মৌসুমি ফসল। শিগগিরই এ ক্ষেত্রে স্বস্তি আসবে বলে মনে করছি; শুধু সবজি নয়, সবকিছুতেই স্বস্তি আসবে। সরকার খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করছে; টিসিবির মাধ্যমে এই বিক্রয়ের পরিধি আরও বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি কিছু বেসরকারি সংস্থাও কাজ করছে। সরকার তাদের উৎসাহিত করছে।
পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য যারা: প্রসঙ্গত, দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে গঠিত টাস্কফোর্স গত ২৯ সেপ্টেম্বর পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। গভর্নরকে সভাপতি করে গঠন করা এই টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একজন করে উপযুক্ত প্রতিনিধি।
এই টাস্কফোর্সের কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর কাজ হবে, বাংলাদেশ হতে বিদেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা প্রদান, পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধার করা সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তথ্য আহরণ এবং পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সাধন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী টাস্কফোর্সের কার্যাবলী সমন্বয় করবেন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) টাস্কফোর্সকে প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
ইউডি/এজেএস

