কমলার সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি
শহীদ রানা । শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫: ৩৬
আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইতিহাস নেই। এবার সেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি কমলা হ্যারিসের সামনে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি নিজেও এ কথা জানান। শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কমলা হ্যারিস। দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রেডিও টক শো ও পডকাস্টে কথা বলছেন তিনি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান প্রায় কাছাকাছি।
আমেরিকার জাতীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয় আমেরিকা কি প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের জন্য প্রস্তুত? জবাবে কমলা বলেন, ‘পুরোপুরিভাবে’। তার প্রার্থিতা দেশের দৃশ্যপট বদলে দেবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, কমলা হ্যারিস বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন গত চার বছর। ধরে নেওয়া হচ্ছে নির্বাচিত হলে তিনি বাইডেনের পথেই হাঁটবেন। কিন্তু তিনি যখন বাইডেনের ছায়া থেকে বের হয়ে আসবেন, ধারণা করা হচ্ছে, অনেক নীতি নির্ধারণে তিনি হবেন বাইডেনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ।
উল্লেখ্য, আমেরিকার বড় দুটি দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সাধারণত দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে হয়। প্রচলিত প্রথা হলো, বর্তমান প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করতে চাইলে তার দলের বড় নেতারা কেউ তাকে প্রাইমারি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ করেননি। প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনঃনির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন। প্রায় একবছর ধরে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দেশের অর্থনীতি তার পক্ষে কাজ করছিল। যদিও বড় বড় অর্থনীতিবিদরা একসময় বলছিলেন যে কোনো সময় বড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে, কিন্তু তার সময়ে অর্থনীতি ভালোই যাচ্ছে-স্টক বাজার শক্তিশালী এবং বেরকারত্ব নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। কিন্তু তার বিপদ দেখা দিলো অন্যভাবে– বয়সের চাপে নির্বাচনি প্রচারে তেমন আলো ছড়াতে পারছিলেন না তিনি এবং তার জনসমর্থন দিন দিন কমে যাচ্ছিল।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে বাইডেন খুব এলোমেলো কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের হতাশা দিন দিন বাড়ছিল, কিন্তু কে বলবে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টকে যে দলের স্বার্থে তাকে সরে যেতে হবে! অবশেষে এগিয়ে এলেন ন্যান্সি পেলোসি, প্রাক্তন স্পিকার-যিনি অনেক বছর পার্লামেন্টে ডেমোক্রেটিক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার যুক্তি ছিল, ট্রাম্পকে নির্বাচনে হারাতেই হবে, এর জন্য বাইডেন উপযুক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী নন। রাতারাতি বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বেজে গেলো-দলের অন্য নেতারা পেলোসিকে জোরালোভাবে সমর্থন করলেন। এই বছরের ২১ জুলাই বাইডেন তার ভইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেন। রাতারাতি ডেমোক্র্যাটরা হ্যারিসকে গ্রহণ করে নিল, হ্যারিসের উষ্ণ হাসি এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠ নির্বাচনি প্রচারণায় আবার ডেমোক্র্যাটদের জন্য আলো ছড়াতে লাগল।
ইউডি/এজেএস

