জনপ্রিয়তায় এগিয়ে উজ্জীবিত ট্রাম্প
আশিকুর রহমান । শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫: ৩৪
রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি সুখবর নিয়ে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জরিপ। এতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তায় কমলা হ্যারিসকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প বর্তমানে ৪৭ শতাংশ জনসমর্থন পাচ্ছেন, যা তার প্রতিদ্ব›দ্বী কমলা হ্যারিসের ৪৫ শতাংশ সমর্থনের তুলনায় বেশি। গত আগস্টে একই ধরনের জরিপে কমলা দুই পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু এখন ভোটারদের সমর্থনে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এগিয়ে গেছেন। গত ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১,৫০০ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, শুধু সমর্থন নয়, ট্রাম্পের প্রতিদ্বদ্বীতার ক্ষেত্রেও ৪৯ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে, যেখানে কমলার পক্ষে রয়েছে ৪৬ শতাংশ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরে যাবার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। প্রকৃতপক্ষে তিনি বাইডেনকে কখনো প্রেসিডেন্ট মেনে নেননি, তার মতে তাকে কোনো না কোনোভাবে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বড় শক্তি হলো রিপাবলিকান পার্টিতে তার গোঁড়া সমর্থক দল, যারা অন্য দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের গলাবাজিতে প্রফুল্ল এবং ট্রাম্পের আমেরিকাকে আবার মহৎ করার ডাকে উজ্জীবিত। আমেরিকার অর্থনীতি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, ফলে বেশির ভাগ জনগণ যারা আগে হাই স্কুল পাশ করে স্থানীয় কোনো কল-কারখানায় ভালো বেতনে কাজ করত, তারা দারুণভাবে পিছিয়ে পড়ছে। ট্রাম্প তাদের এই হতাশাকে কাজে লাগাচ্ছে। রিপাবলিকান দলের অন্য নেতারা কেউই ট্রাম্পকে ডিঙিয়ে রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারছেন না। তাদের অনেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্যান্য পদে নির্বাচন করছেন, আবার কেউ কেউ নীরব দর্শক-যাদের মাঝে আছেন ফ্লরিডার প্রাক্তন গভর্নর জেফ বুশ এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি। ট্রাম্পই রিপাবলিকান পার্টির একছত্র নেতা এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।
প্রতিটা জরিপেই জনমত দুই থেকে তিন শতাংশ ওঠা-নামা করছে, কারণ রণক্ষেত্র স্টেটসের জনমত যাচাইয়ে প্রতিটি স্টেটসেই দুজনের পার্থক্য একেবারে নগণ্য। সাতটি রণক্ষেত্র স্টেটসের মধ্যে হ্যারিস চারটিতে দুই শতাংশ এগিয়ে আছেন, অন্য তিনটিতে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকা প্রায় একই সংখ্যায়। তাই এখন পর্যন্ত নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রণবাদ্য বাজছে। কে হচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? সম্ভবত, এইবার জনমত জরিপ দিয়ে আগেভাগে তা অনুমান করা যাবে না। উত্তরটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের রাত পর্যন্ত।
এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে থাকে অভিবাসন ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে স¤প্রতি আমেরিকাকে ‘গোটা বিশ্বের ময়লার ভাগাড়’ বলে অভিহিত করেন তিনি। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছি। বাকি বিশ্বের জন্য আমরা একটি ময়লার ভাগাড়’। এখানে ‘আবর্জনা’ শব্দের মাধ্যমে অভিবাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করেন এই রিপাবলিকান প্রার্থী। কট্টর অভিবাসীবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এর আগে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক শিবির।
ইউডি/এজেএস

