রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘অপসারণ’ : বিতর্ক যেন থামছেই না !
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:১২
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা
আরাফাত রহমান : গত ১৯ অক্টোবর সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের ‘কোনো দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপ্রধানের ওই বক্তব্যের পর থেকেই তার অপসারণ ইস্যুতে সরব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এদিকে, জাতি গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই সুযোগ নষ্ট হলে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। রবিবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসে নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ গঠন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের স্বার্থে সবাইকে বিভেদ ভুলে কাজ করার আহ্বানও জানান।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি সামনে আসার পর গত কয়েকদিন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে অবস্থান সুষ্পষ্ট করার কথা বলেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের বিষয়ে বিএনপির মতামত জানতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্য শোনার পর দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে সংগঠন দুটোর নেতাদের জানিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা ২৩ তারিখ জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলাম সকল রাজনৈতিক দল যারা গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল যারা আমাদের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বে এসে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন আমরা ঘটিয়েছি। এটা ছিল প্রাথমিক ধাপ। এখন ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিলোপের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর অপসারণ। এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতির প্রশ্নে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত। এটাতে আমাদের যেমন তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই, তেমনই অতিরিক্ত বিলম্ব করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ঐকমত্য যেহেতু গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, ওইটা পর্যন্ত আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ইস্যুতে সরকারকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয় এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রসঙ্গত, মানবজমিন পত্রিকার রাজনৈতিক ম্যাগাজিন ‘জনতার চোখ’ এর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ‘উনি তো কিছুই বলে গেলেন না…’ পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখাটি প্রকাশিত হয় গত ১৯ অক্টোবর। সেখানে মানবজমিন সম্পাদক লিখেছেন, প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করে থাকেন তাহলে সেটা গেল কোথায়? কারও কাছে এই প্রশ্নের জবাব নেই। তিন সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছি। খোঁজ নিয়েছি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও। যেখানটায় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র থাকার কথা। কোথাও নেই। শেষপর্যন্ত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি হন মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আপনার কাছে কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্রটা আছে? রাষ্ট্রপতি তাকে বলেন, আমি শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়তো সময় পাননি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস
দেশের স্বার্থে সবাইকে বিভেদ ভুলে কাজ করার আহ্বান
রিন্টু হাসান: জাতি গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই সুযোগ নষ্ট হলে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। রবিবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসে নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ গঠন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের স্বার্থে সবাইকে বিভেদ ভুলে কাজ করার আহ্বানও জানান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বাহিনীর পর্ষদ গঠিত হয়। জাতির এই অগ্রযাত্রায় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী বরাবরের মতো দক্ষতার সঙ্গে জনগণের পাশে থাকবে বলে আশা করেন প্রধান উপদেষ্টা। বিগত দিনে যেমন সহযোগিতা পেয়েছে আগামীতেও যেন জনগণ তা পায় এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তাই দক্ষ নেতৃত্ব দিতে এবারের পরিচালনা পর্ষদকে তা সঠিকভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নৌ ও বিমান বাহিনী মানুষের আস্থার প্রতীক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সৃষ্ট বাংলাদেশে সকলকে স্বাগত জানান। এসময় তিনি জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকল শহিদকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি আরও স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহিদসহ সকল বীর সেনানীদের যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার উপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া সৎ, নীতিবান এবং নেতৃত্বের অনন্য গুণাবলি সম্পন্ন অফিসারগণই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া যে সমস্ত অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকা-ে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সেই সকল অফিসারদেরকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
নানা প্রতিক‚লতা সত্তেও সশস্ত্র বাহিনীর ভ‚মিকা প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সশস্ত্র বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, স¤প্রতি নানা প্রতিক‚লতা মধ্যেও আপনারা যেভাবে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন, তা প্রকৃতপক্ষে পেশাদারিত্ব বহন করে। ভবিষ্যতেও সেটা বজায় থাকবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোকচিত্রে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে তার মূল্যবান মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিমান বাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় সরকার
আসাদুজ্জামান সুপ্ত : রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতির প্রশ্নে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত। এটাতে আমাদের যেমন তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই, তেমনই অতিরিক্ত বিলম্ব করার সুযোগ নেই। যেহেতু রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, ওইটা পর্যন্ত আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। রবিবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতির বিষয়টা এমন- এখানে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। যখন একটা সিদ্ধান্ত হবে, সেটা হবে প্রকাশ্যে।
তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক ঐক্য যত তাড়াতাড়ি হবে, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সিদ্ধান্ত কী হবে তা আমি বলতে পারব না। কারণ রাজনৈতিক ঐক্য কোন দিকে যাবে, মতামত কোন দিকে বেশি যাবে- সেটা তো আমি বলতে পারব না। এ মুহূর্তে কারো প্রেডিক করাও সম্ভব না। রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিএনপি বলেছে- তারা রাজনৈতিক সংকট দেখছে; আবার বিএনপিরই দুই-একজন নেতা বলছেন, তারা সে সংকট দেখছেন না। এখন যারা দাবি করছে তার অপসারণ দরকার এবং যারা বলছে এটা হলে রাজনৈতিক সংকট হবে- মূলত ঐক্যটা তাদের মধ্যে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। চলমান সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, হয়তো সকলের সাথে কথা বলার প্রয়োজন নেই। যারা মনে করে অপসারণ বা পদত্যাগ প্রয়োজন বনাম যারা মনে করে অপসারণ সংকট হবে- আলোচনাটা মূলত তাদের মধ্যে হবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, এখন উপদেষ্টা পরিষদ ক্লিয়ার করেছে যে- রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। রাজনৈতিক ঐক্যের ফল কী হবে সেটা না জেনে আগে মন্তব্য করা যাবে না। আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতি হওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। ডকট্রিন অব নেসেসিটি বলে একটা কথা শুনেছেন- এটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত একটা মতবাদ; সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাই ছিল আমাদের একমাত্র অপশন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম
সরকারকে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান
আরেফিন বাঁধন : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ইস্যুতে সরকারকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয় এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। রবিবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে-বাংলানগর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যুবদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি অপসারণে ইস্যুতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, এই নিয়ে বিএনপির অবস্থান কি? জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরাম রয়েছে, সেখানে এ নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করবো। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগেও বলেছিলাম গণ-অভ্যুত্থানের ফসলকে ঘরে তোলার জন্য বাংলাদেশের বিপ্লবকে সংহত করতে হলে জাতীয় ঐক্য করতে হবে। কোনোরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। তারজন্য বেশি প্রয়োজন অতিদ্রুত নির্বাচন কেন্দ্রিক সংস্কার শেষে নির্বাচন করা।
যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করা দরকার: নির্বাচন বিলম্বিত করতে কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে কিনা বিএনপি? জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বার বার বলছি-যত দ্রæত সম্ভব নির্বাচন করা দরকার। একটি সাংবিধানিক রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আজকে শপথ নিয়েছি, যেকোন মূল্যে আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবোÍ এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে গত ৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। এই সংগ্রামে যুবদলের ভ‚মিকা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

সালাহউদ্দিন আহমেদ
সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে
সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থানী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সংবিধানের সংকট যদি হয়, রাষ্ট্রীয় সংকট যদি হয় সেই সংকটের পেছনে কোন শক্তি আছে সেটা আমাদের আগেই খুঁজে বের করতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদীরা যাতে সুযোগ নিতে না পারে সেই বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
রবিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত রাজধানীতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে। আমাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ বিষয়টি জনতার দাবি। সিদ্ধান্ত সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে, সবাই গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা জনতার দাবি উল্লেখ করে বিএনপি এ নেতা বলেন, গুলি করে ছাত্রদের হত্যার পর আওয়ামী লীগ আবার এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে কিনা তা জনতার আদালতে সিদ্ধান্ত হবে। ট্রাইব্যুনালে একটা সংশোধনী আনার কথা শুনছি। সংগঠন হিসাবে, রাজনৈতিক দল হিসাবে যদি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয় তাহলে দলটির প্রধান হিসাবে শেখ হাসিনাও বিচার হবে।

ডা. শফিকুর রহমান
এখন ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ করলে পরিণতি আরও করুণ হবে
সাদিত কবির : নিজের দলসহ অন্য রাজনৈতিক দলের কেউ যদি এখন ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ করেন, তাহলে তাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়েও করুণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা ও কোনো রাজনৈতিক দল যদি ফ্যাসিবাদের মতো অনুরূপ আচরণ করি, তাহলে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত, আল্লাহ ছেড়ে দেবেন না, এ দেশের জনগণও আমাদের ক্ষমা করবেন না। রবিবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৮ অক্টোবর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
বাংলাদেশে কোনো ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র আর বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, খুনি চোররা পালিয়ে জানে বাঁচতে পারবেন না। তারা যতগুলো নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে প্রত্যেকটি হত্যার আমরা ন্যায়বিচার চাই। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা এ দেশকে ভালোবাসে তারা কখনো খুনি হতে পারে না, মানুষ খুন করতে পারে না। দেশপ্রেমিকরা কখনো পালায় না, পালাতে পারে না। তাহলে কারা পালায়? আপনারা জানেন, আপনারা জেনেছেন, খুনি ও চোররা পালায়। পালিয়ে জানে বাঁচতে পারবেন না। আপনাদেরকে ধরে দেশে ফেরত পাঠাবে। পাপাচাররা কখনো জনতার চোখ ফাঁকি দিতে পারে না।
ইউডি/এজেএস

