এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি, তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে
আরাফাত রহমান। সোমবার, ১১ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৩৫
প্রযুক্তি ছাড়া যেমন আজকের বিশ্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ছাড়া কল্পনা করা যায় না আজকের প্রযুক্তি বিশ্বের কথা। এআই প্রযুক্তির নিত্য উৎকর্ষতায় অনেক অসাধারণ কাজ আজ হয়ে উঠেছে সাধারণ, অনেক অসম্ভব হয়ে উঠেছে সম্ভব। তবে এআই প্রযুক্তির আশীর্বাদের তালিকা যত দীর্ঘই হোক না কেন এআই প্রযুক্তির ঝুঁকির বিষয়টি এড়িয়ে যাবার কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন এক ঝুঁকি তথা পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা উঠে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাগুলো পরিশ্রম কমিয়ে দিলেও এটি পরিবেশবান্ধব নয়। বরং এআইয়ের কারণে কার্বন নির্গমন বাড়ছে। আর নতুন এক গবেষণা বলছে, এটি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। জটিল ও বাড়তি ক্ষমতা রয়েছে এমনসব এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য একদিকে অনেক বেশি শক্তি প্রয়োজন, অন্যদিকে এগুলো ব্যবহারে রয়েছে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। আর এটিই গুরুতর পরিবেশগত পরিণতি বয়ে আনছে বলে সতর্ক করেছে নতুন এক গবেষণা পত্র।
‘রিভিজিট দ্য এনভারমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অফ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স: দ্য ওভারলুকড কার্বন এমিশন সোর্স?’ শীর্ষক গবেষণাটি প্রকাশ হয়েছে ‘ফ্রন্টিয়ার্স অফ এনভারমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের জার্নালে। গবেষণা বলছে, এআই সিস্টেমগুলো আরও ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কম্পিউটিং ক্ষমতা দরকার হয়, এবং চালানোর জন্যও প্রয়োজন ব্যাপক শক্তির। উদাহরণ হিসেবে, ওপেনএআইয়ের বর্তমান জিপিটি-৪ আগের মডেলগুলোর তুলনায় ১২ গুণ বেশি শক্তি ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। আরও ভয়ের বিষয় হল, এসব মডেলের প্রশিক্ষণ আসলে কাজের খুব ছোট একটি অংশ। আদতে এআই টুলগুলো চালানোর জন্য যে শক্তি দরকার হয়, তা একটি একক প্রশিক্ষণের তুলনায় ৯৬০ গুণ বলে অনুমান করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, পরিবেশের ওপর এর প্রভাব বিশাল হতে পারে। এআই-সংশ্লিষ্ট কার্বন নির্গমনের ফলে এ খাতে বছরে এক হাজার কোটি ডলার খরচ হতে পারে। এ ছাড়া, এ ধরনের নির্গমন পরিমাপের উপায়গুলো মানসম্মত করার পাশাপাশি একটি সীমার মধ্যে রাখার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রকদের কাছে নতুন নিয়ম তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক মেং ঝাং বলছেন, এআই-এর ক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি এর পরিবেশগত প্রভাবে উদ্বেগজনক বৃদ্ধির প্রতিফলন। তিনি বলছেন, এআই খাতের জন্য পরিবেশবান্ধব চর্চা ও টেকসই মান গ্রহণ করার জরুরী প্রয়োজনের ওপরেই জোর দেয় এ গবেষণা। আমাদের লক্ষ্য হল, এআই-এর কার্বন ফুটপ্রিন্ট মোকাবেলায় সক্রিয় প্রবিধান তৈরির জন্য নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রয়োজনীয় ডেটা পৌঁছে দেওয়া।
প্রসঙ্গত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী,কীভাবে কাজ করে: কিছুদিন আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল দূর ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক বিষয়। কিন্তু অতি স¤প্রতি এই দূরবর্তী ভবিষ্যতের বিষয়টি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে শুরু করেছে। তার প্রধান কারণ, পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল বিশ্বে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে যে, হঠাৎ করে অচিন্তনীয় পরিমাণ ডেটা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ডেটাকে প্রক্রিয়া করার মত ক্ষমতাশালী কম্পিউটার হাতে চলে এসেছে।
ইউডি/এজেএস

