গুগল’র প্রতিশ্রুতি: কার্বন নির্গমনের হার শূন্যে নামবে কী?
সাদিত কবির । সোমবার, ১১ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৪০
এক বছরেই কার্বন দূষণ বাড়তে থাকায় আংশিকভাবে এআইকে দোষারোপ করেছে গুগল, যেটি ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষমাত্রা অর্জনে এই সার্চ জায়ান্টের প্রতিশ্রুতিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নির্গমনে পৌঁছানোর বিষয়টি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ও আমরা জানি এটি সহজ হবে না। সম্প্রতি প্রকাশিত নিজেদের ‘অ্যানুয়্যাল সাসটেইনিবিলিটি’ প্রতিবেদনে এ কথা স্বীকার করেছে গুগল। গুগল জানায়, এ লক্ষ্য অর্জনে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাবের ঝুঁকি বিষয়ে তাদেরকে অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। কারণ এ বিষয়টি জটিল এবং এ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাও কঠিন।
সার্চ ইঞ্জিন ও গুগল ওয়ার্কস্পেসের মতো কোম্পানিটির মূল পণ্যগুলোতে এআইকে ঢেলে সাজানোর জন্য ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পরিবেশে কার্বন নির্গমনের হার ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালকে ভিত্তি হিসাবে ধরলে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। এর পরিবেশগত কিছু কারণও খুঁজে পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করেছে গুগল। কোম্পানিটির দাবি, গুগলের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের এদের প্রতিদ্ব›দ্বীদের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি বিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে এবং কোম্পানিটি জ্বালানি সাশ্রয়ী ট্রানজিট রাউটিং ও চরম আবহাওয়ার মডেলিংয়ের মতো পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছে। প্রতিবেদনের একটি অংশে রয়েছে, জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য এআই অনেক বেশি আশা জাগাতে পারে। আসলে ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে এআইয়ের ভ‚মিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, গুগলের সমপর্যায়ের বিভিন্ন কোম্পানিও তাদের কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করে চলেছে। ২০২০ সাল থেকে মাইক্রোসফটের কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ। অ্যামাজন নিজেদের ২০২২-২০২৩ সালের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। কোম্পানিটি বলেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তাদের কার্বন নির্গমন ০.৪ শতাংশ কমেছে। তবে ২০১৯ সাল থেকে এখন পযন্ত সার্বিকভাবে কার্বন নির্গমন প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট। জ্বালানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের এই অগ্রগতি বিদ্যুত গ্রিড ও জলবায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’-এর তথ্য অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টারে বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণ হবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে ৫০ শতাংশ। ‘কর্নেল ইউনিভার্সিটি’র এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ফেংকি ইউ বলেছেন, এ বৃদ্ধির প্রবণতা অনেক বেশি গতিশীল। এটি এমন এক বিষয় যা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।
ইউডি/এজেএস

