পরিবেশে এআই’র প্রভাব কতটা: খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা
আরেফিন বাঁধন । সোমবার, ১১ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫
যত দিন যাচ্ছে ততই অবাক করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। এআইয়ের জগতে বেশিরভাগ মানুষের যে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটছে তা হল চ্যাটজিপিটি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন ২০ কোটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় চ্যাটজিপিটিকে। যার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করে ওপেনএআই। সম্প্রতি এক রিপোর্টে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওপেনএআই উদ্ভাবিত আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ফলে পরিবেশে খারাপ প্রভাব পড়ছে। এআই টুলের বিদ্যুৎ খরচ শুনে এমনটাই মন্তব্য করছেন অনেকে। সাধারণ ঘরে যে বিদ্যুৎ লাগে তার ১৭ হাজার গুণ বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় চ্যাটজিপিটির পিছনে। প্রতিদিন অসংখ্য ইউজারদের উত্তর দিতে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে। আর তার জন্য ইউনিট ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেওয়া এই প্রযুক্তি।
বিভিন্ন এআই টুল পরিবেশের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা। সম্প্রতি ‘রেডিওলজি’ (ইমেজিংয়ের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করার পদ্ধতি) খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে, যা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে অলাভজনক সংস্থা ‘রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার (আরএসএনএ) জার্নাল ‘রেডিওলজি’তে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি)’ নির্গমনে বড় ভ‚মিকা রাখছে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকাল ইমেজিংয়ের মত বিষয়গুলো। এক্ষেত্রে রেডিওলজি খাতের কর্মপদ্ধতির উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বিভিন্ন এআই টুল, যেখানে ব্যবহার করা যেতে পারে অপ্টিমাইজড ইমেজিং প্রোটোকলের মত ব্যবস্থা। এর ফলে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্ক্যানিংয়ের সময় কমে আসার পাশপাশি রোগীর ঝামেলা কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ছাড়া, কম দামী ইমেজিং ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রেও এসব এআই টুল কাজে লাগতে পারে।
তবে উদীয়মান এ প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এ গবেষণার ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টোর সহযোগী অধ্যাপক কেট হ্যানেম্যান বলেন, মেডিকেল ইমেজিংয়ে অনেক বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। তবে আমরা এসব তথ্য সংরক্ষণ (ডেটা স্টোরেজ) ও এআই টুলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সাধারণত চিন্তা করি না। তিনি আরও বলেন, এআই মডেলের উন্নয়ন ও বিস্তারে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়। আর মেডিকেল ইমেজিং ও এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তথ্য সংরক্ষণের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এ গবেষণায় রেডিওলজিতে এআই টুল যোগ করার সুবিধা এবং পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের দিকগুলোতে নজর দিয়েছে গবেষণা দলটি, যেখানে এআইয়ের মাধ্যমে কাজের ধারা উন্নত করা, ছবি তোলার গতি বাড়ানো, চিকিৎসার খরচ কমানো এবং রোগীর অভিজ্ঞতাকে আগের চেয়ে উন্নত করার মত বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। হ্যানেম্যান বলেন, আমাদের সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিদিন ৫ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ করে চ্যাটজিপিটি। যা আমেরিকার সাধারণ ঘরের তুলনায় ১৭ হাজার গুণ বেশি। ব্যবহার যত বাড়বে তত বিদ্যুৎ খরচ আকাশ ছোঁবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। মূলত, এই ধরনের টুলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দরকার পড়ে কয়েক লাখ ডেটা। সেই সব ডেটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ করে চ্যাটজিপিটির মতো টুলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর গোটা প্রক্রিয়া সফল করার জন্য মূল শক্তি আসে বিদ্যুৎ থেকে। তাই পরিবেশবিদরা মনে করছেন, চ্যাটজিপিটির ফলে বায়ুমøলে খারাপ প্রভাব পড়ছে। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন বহু বিজ্ঞানী ও গবেষক। ডেটা বিজ্ঞানী অ্যালেক্স ডি ভ্রিসের অনুমান, গুগল যদি প্রতিটি সার্চের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহার শুরু করে তাহলে বছরে প্রায় ২৯ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হবে। যা কেনিয়া, গুয়াতেমালা এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশের বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচকেও ছাপিয়ে যাবে। যদিও এটা ভবিষ্যৎ নয় বরং বর্তমানে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে প্রতিটি এআই সার্ভার যে পরিমাণ শক্তি খরচ করছে তা ব্রিটেনে এক ডজন পরিবারের মিলিত শক্তির থেকেও বেশি।
ইউডি/এজেএস

