গাজায় ‘গণহত্যা’, লেবানন ও ইরানে হামলা: ইসরায়েলি আগ্রাসন-এবার সোচ্চার সৌদি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৩ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৩০
অবিলম্বে সামরিক আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান যুবরাজের
আসাদ এফ রহমান : প্যালেস্টাইনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৩ হাজারেরও বেশি প্যালেস্টাইনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ। এবার ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলো সৌদি আরব। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘গণহত্যার’ অভিযোগ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে সৌদি আরবের প্রকাশ্যে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এটিই প্রথম। রাজধানী রিয়াদে আরব ও মুসলিম নেতাদের সম্মেলনে বিন-সালমান লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের হামলারও সমালোচনা করেছেন। আরব লীগ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনের আগে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
তবে ইসরায়েল গাজায় প্যালেস্টাইনি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের সেনাবাহিনীর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ জোরালভাবে অস্বীকার করেছে। দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ প্রকাশ করে যুবরাজ বিন-সালমান ইরানের মাটিতে হামলার বিষয়েও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। একইসঙ্গে তিনি অন্য নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহবান জানান। অন্যদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া ‘আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের ব্যর্থতা’। তিনি গাজায় খাদ্য সংকটের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাথমিক পর্যায়ে অনতিবিলম্বে সংঘাত ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া আরব দেশগুলোর জোট আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইতও গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনও কথার মাধ্যমে প্যালেস্টাইনি জনগণের দুর্দশা প্রকাশ করা যায় না।
গতবছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখন্ডে প্যালেস্টাইনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি করার পর গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তার পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলের হামলা চলে আসছে। গাজায় হামাস-ইসরায়েলের এ লড়াইয়ে এখন হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের হিসাবে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৪৩ হাজারেরও বেশি প্যালেস্টাইনি। জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করা গেছে তাদের সত্তর ভাগই নারী ও শিশু। এবারের আরব সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা গাজায় জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ‘অবিরাম হামলার’ও নিন্দা করেছেন। প্যালেস্টাইনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্তে¡ও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভ‚খøে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

ইরানে হামলা ইস্যু: সালমানের সতর্কবার্তা
শহীদ রানা : ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি ইসরায়েলকে সম্মান দেখাতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল অবশ্যই ইরানের ভূখন্ডে হামলা চালাতে পারবে না। দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›দ্বী রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ প্রকাশ করে সৌদি যুবরাজ ইরানের মাটিতে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন। একই সাথে তিনি অন্য নেতাদের সাথে সুর মিলিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের আহবান জানান। রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব লিগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) যৌথ শীর্ষ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের হামলায় প্যালেস্টাইনের গাজা ও লেবাননে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার সুরাহা করতেই এই সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সম্মেলনে প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট নাজিব মিকাতিসহ আরব লিগ ও ওআইসির সদস্যদেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ইরানের বার্তা: তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গাজায় এবং লেবাননে ইসরায়েলের যে যুদ্ধ চলছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অনেক দূরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তৃতায় এই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি। আরাগচি বলেন, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষতিকর প্রভাব কেবল পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি অনেক দূরেও এর প্রভাব পড়তে পারে; যা বিশ্বের জানা উচিত। স¤প্রতি গাজা যুদ্ধ থেকে সামরিক শক্তিকে লেবাননের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। গত সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পুরোমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জেনারেল নিহত হওয়ার পর গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইরান। ওই দিন ইসরায়েলি ভ‚খøে দুই শতাধিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই হামলার জবাবে গত ২৬ অক্টোবরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ২৬ অক্টোবর ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর চার সদস্য নিহত ও রাডার ব্যবস্থায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমের খবরে ইসরায়েলি হামলায় একজন বেসামরিকের প্রাণহানির তথ্যও জানানো হয়েছে। আমেরিকা এবং ইসরায়েল পাল্টা হামলা না চালাতে ইরানকে সতর্ক করলেও তেহরান কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, গাজা এবং লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ইরানের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি বলেন, ‘যদি তারা (ইসরায়েলিরা)… যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় এবং এই অঞ্চলের নিপীড়িত ও নিরপরাধ মানুষকে গণহত্যা বন্ধ করে, তাহলে সেটি আমাদের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা ও ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একজন উপদেষ্টা ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলী লারিজানি বলেছেন, ইরানে সংঘাত টেনে নিয়ে আসাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। এই ফাঁদ এড়াতে আমাদের অবশ্যই বুদ্ধিমানের সাথে কাজ করতে হবে এবং সহজাত প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ব্যক্তিগত লাভের জন্য যুদ্ধ চালাচ্ছেন নেতানিয়াহু?
আরিফ হোসেন : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ জারি রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইসরায়েল জিভ। ইসরায়েলের স¤প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিভ আরও বলেছেন যে নেতানিয়াহুর এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলার কারণেই মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তকে। সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল জিভ বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য ছিল হামাসের হাতে থাকা জঙ্গিদের মুক্ত করা। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা বুঝলাম, জিম্মিদের মুক্ত করা এই যুদ্ধের অগ্রাধিকার নয়। শুরু থেকেই যুদ্ধের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন নেতানিয়াহু। মূলত তার নির্দেশনার কারণেই একসময় জিম্মিদের মুক্ত করার প্রাথমিক লক্ষ্য গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধের নির্দেশনা দিতে থাকেন। ইয়োয়াভ গ্যালান্ত (ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী) এই নিয়ে আপত্তি তোলার কারণে তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথি চুরি হয়েছে। এ চুরির দায়ে প্রাথমিকভাবে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নেতানিয়াহুর একজন সহকারীও রয়েছেন। চ্যানেল ১২-কে এ প্রসঙ্গে ইসরায়েল জিভ বলেন, নেতানিয়াহু নিজে মিথ্যে দিয়ে পরিবৃত। তার মধ্যে সত্যতার কোনো স্থান নেই। তার সহকারীরাও যে তার মতোই হবেÍ এটা স্বাভাবিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৪২জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায়। হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বার বার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জনানো হলেও তা উপেক্ষা করে এখনও গাজায় অভিযান জারি রেখেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সে অভিযানে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছে ৪৩ হাজার ৬ শতাধিক ফিলিস্তিনি, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ। এছাড়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের জেরে গাজায় খাদ্য, সুপেয় পানি এবং ওষুধের ভয়াবহ সংকট চলছে। গাজায় বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারÍ ৩ দেশ। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভিযানে বিরতি দিতে রাজি না হওয়ায় সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গাজায় নির্মম অভিযানের জেরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গণহত্যা মামলা দায়ের হয়েছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)।

গাজায় প্রাণহানি ছাড়াল ৪৩ হাজার ৬০০
আশিকুর রহমান : প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখন্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় কমপক্ষে আরও ৪০ প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৩ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক প্যালেস্টাইনি। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজা ভূখন্ডটির দক্ষিণে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি ক্যাফেতে বসে থাকা অবস্থায় লোকদের ওপর ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এর আগে এই এলাকাকে “নিরাপদ অঞ্চল” হিসাবে ঘোষণা করেছিল। বার্তা সংস্থা বলছে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এই ছিটমহলের দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের পশ্চিমে অবস্থিত ছোট তাঁবুর ওই ক্যাফেতে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সোমবার গভীর রাতে কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এই হামলা এটিই প্রমাণ করছে যে, ‘নিরাপদ এলাকা’ সম্পর্কে ইসরায়েলি দাবিগুলো কেবলই মিথ্যা বর্ণনা ছাড়া আর কিছুই নয়। লোকেরা ইন্টারনেট এবং বাইরের বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে বা বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখতে এই কফি শপে যায়। গভীর রাতে ড্রোন থেকে ওই ক্যাফেতে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় যখন লোকেরা সেটির ভেতরে ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সেসময় এই ক্যাফটি মানুষে পূর্ণ ছিল।
লেবাননজুড়ে বর্বরতা, হত ছাড়াল ৩২০০: লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৬ জন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৫৪ জন নিহত হয়েছে বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।এক বিবৃতিতে লেবানিজ এই মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় গত একদিনে আরও ৫৬ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে গত অক্টোবর থেকে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছেছে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৩ নভেম্বর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
মূলত গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অপারেটিভস, অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলছে। হিজবুল্লাহও পাল্টা আঘাত হানছে। লেবাননে অভিযানরত ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের হত্যার পাশাপাশি ইসরায়েলের বেশ গভীরে সামরিক ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক মিসাইল দিয়ে হামলা চালাচ্ছে শক্তিশালী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এমন অবস্থায় যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অনেক দূরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান।
ইউডি/এজেএস

