রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : প্রথমবারের মতো আমেরিকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : প্রথমবারের মতো আমেরিকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার

আসাদ এফ রহমান । বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৬:১০

হঠাৎ করেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনে আমেরিকা। রাশিয়ার ভূখন্ডের গভীরে আমেরিকার তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত রবিবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, রাশিয়ার বেশ খানিকটা গভীরে হামলা চালাতে আমেরিকার তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বাইডেন। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রথম হামলাটি চালাবে ইউক্রেন। আর এই খবর ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে ঠিক তখনই আমেরিকার সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভূখন্ডে হামলা করেছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এই হামলা হয়েছে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন মঙ্গলবার সকালে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক এলাকায় হামলা করেছে। পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভ‚পাতিত করা হয়েছে এবং একটি ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে ওই এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরেছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর কথা ইউক্রেনের গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে এখনো ইউক্রেন সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে এই হামলা চালানো হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর আগুন ধরে যায়। দ্রুত ওই আগুন নেভানো হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে যে তারা রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক এলাকায় একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে।

তবে এই হামলায় এটিএসিএমএস ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটা তারা নিশ্চিত করেনি। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের মতো দূরে কারাচেভ শহরের কাছে একটি ডিপোতে ওই হামলা হয়েছে। হামলার পর ১২টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সামরিক বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে, এই হামলার আগে মঙ্গলবারই রাশিয়ার পরমাণুনীতিতে পরিবর্তন এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর কোনো দেশের সমর্থন নিয়ে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে মস্কো। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র হামলা চালানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করবেন। তিনি শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর পক্ষে। এর দুই মাস আগে আমেরিকা ক্ষেপনাস্ত্র ইস্যুতে অনুমতির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ক্রেমলিনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এ পদক্ষেপ ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো। এখন রাশিয়া এর প্রেক্ষিতে কি পদক্ষেপ নেয় তা ঘিরে বিশ্বব্যাপী শঙ্কা জাগছে। তারা কি পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে এটা নিয়েই চলছে আলোচনা।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading