শতবর্ষী বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার হয়নি ১০ বছরেও
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১০:৩০
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে রেলওয়ে সরকারি চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের বয়স হয়েছে গুনে গুনে ১০০ বছর। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এ প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ পূর্তিতে আয়োজন করা হয়েছে দু’দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। এতে ফেলে আসা সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে দেশ-বিদেশ থেকে পাকশীতে আসবেন ২ হাজারের বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অথচ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার অবস্থা বেহাল। এটি গত ১০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি।
জানা গেছেন, অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সঙ্গী, বন্ধুস্বজন ও পরিবারের সদস্যরা থাকবেন। পাশাপাশি বর্ণাঢ্য আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হবেন আরও অন্তত পাঁচ থেকে সাত হাজার দর্শনার্থী। শেষ দিন দেশের ব্যান্ড তারকা জেমসসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা আসবেন মঞ্চ মাতাতে। এতে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসবেন ১০ থেকে ১৫ হাজার দর্শক।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রধান ফটক থেকে চন্দ্রপ্রভা স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। এতে স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ গত ১০ বছরেও সংস্কার করেনি। ফলে যানবাহন দূরের কথা, হেঁটেও ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায়ই ছাত্রদের বাইসাইকেল নষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।
অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসার সময় রাস্তার কাদাপানিতে পোশাক নোংরা হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের ফিরে যেতে হয় বাড়ি। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল আওয়াল খান, কুলসুম আরা, নবম শ্রেণির রিয়া খাতুন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, প্রতিদিনই স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে কাদাপানিতে তাদের অনেকের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। এতে অনেকে বিড়ম্বনার শিকার হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার আবেদন করলেও এ রাস্তা সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গিয়ে চন্দ্রপ্রভার শতবর্ষের অনুষ্ঠানের আগেই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ফের আবেদন করা হয়েছে। স্কুলের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান মঞ্জু এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে আগেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের ভাষ্য, রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবীর বলেন, স্কুলের শতবর্ষের অনুষ্ঠানের আগেই জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে জরিপ এবং ইস্টিমেট করে পাবনার নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও এ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। স্কুলের শতবর্ষের অনুষ্ঠানের আগেই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী ২০ ডিসেম্বরের আগেই সংস্কার করা হবে রাস্তাটি।’
ইউডি/কেএস

