প্রজাপতির রঙিন ডানায় উৎসবমুখর জাবি

প্রজাপতির রঙিন ডানায় উৎসবমুখর জাবি

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ০৯:০০

অভিভাবকদের হাত ধরে মেলায় এসেছে শিশু-কিশোররা। তাদের হাত ও গালে শোভা পেয়েছে নানা রঙের প্রজাপতির প্রতিচ্ছবি। কেউ কেউ পরেছে প্রজাপতি মুখোশ। শুধু শিশুরাই নয়, প্রবীণ কিংবা তরুণ-তরুণীরাও প্রজাপতি মুগ্ধতায় ডুবেছেন।

গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগ আয়োজিত প্রজাপতি মেলার ১৪তম আসরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’।

মেলা উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ছোট্ট মেয়ে উষসীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘প্রজাপতি আমাদের ভীষণ আনন্দ দেয়, আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে এগুলো যোগ করে নতুন মাত্রা।’ পাঁচ বছরের পূর্বা রায় বলে, ‘নানা রঙের প্রজাপতি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। প্রজাপতির ডানা থাকে। আমি প্রজাপতির মতো ডানায় ভর করে উড়ে বেড়াতে চাই।’

মেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য দিনব্যাপী প্রজাপতিবিষয়ক পাপেট শো, ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতির হাট দর্শন, ঘুড়ি ওড়ানো, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা এবং বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। প্রজাপতি সংরক্ষণে অবদানের জন্য বন ও প্রকৃতিবিষয়ক সংগঠন প্ল্যান্টেশন ফর নেচারের প্রতিষ্ঠাতা সবুজ চাকমাকে এবার বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ পেয়েছেন বাটারফ্লাই ইয়ং ইনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড।

সকালে মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রজাপতির কাছ থেকে মানুষের শেখার আছে। প্রজাপতি পরাগায়ণের মাধ্যমে ক্ষতি ছাড়াই আমাদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

প্রজাপতি মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে প্রায় ১১০ প্রজাতির প্রজাপতির দেখা মিলত। ১৪ বছরের ব্যবধানে সেই প্রজাতির সংখ্যা কমে সত্তরে দাঁড়িয়েছে। মন মাতানো এ পতঙ্গের কমে যাওয়ার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশদূষণ ও প্রজাপতির বাসস্থান ধ্বংসের প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট উদ্ভিদ প্রজাপতির বাসস্থান ও খাবারের মূল উৎস। কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছোট আকৃতির গাছপালা ও ঝোপঝাড় তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। ফলে প্রজাপতি খাবার ও বাসস্থান সংকটে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রজাতি কমলেও সংখ্যা বাড়ছে।

এবারের মেলায় স্ট্রিপেড পিরোট, ব্লু টাইগার, ইয়েলো প্যানসি, মানকি পাজলসহ ৩৫ প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শন করা হয়। প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্য প্রজাপতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট জীববৈচিত্র্য নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, যে গাছে প্রজাপতি ডিম পাড়ছে, ফুলের মধু নিচ্ছে, সেই গাছগুলোর যত্ন নিলে প্রকৃতিতে প্রজাপতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জীববৈচিত্র্য নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে পারে। প্রকৃতিতে প্রজাপতি থাকলে পরাগায়ণ হবে, গাছপালা বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনে যে প্রভাবগুলো আছে, সেগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading