যমুনা নদীর ভাঙন বেড়েছে, আতঙ্কে ১২ গ্রামের মানুষ

যমুনা নদীর ভাঙন বেড়েছে, আতঙ্কে ১২ গ্রামের মানুষ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৯:১৬

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে গত ৪-৫ দিনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ী থেকে বানিয়াযান পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙন প্রতিরোধে বালুর বস্তা ও জিও টিউব ডাম্পিং করা হলেও এরই মধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত নদীভাঙনে যমুনাতীরের শহরাবাড়ী, শিমুলবাড়ী, বানিয়াযান, বরইতলী, ভাণ্ডারবাড়ী, পুকুরি য়া, ভূতবাড়ীসহ আশপাশের ১২ গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরাবাড়ী নৌঘাট এলাকায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। সে সময় ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমিসহ ৪৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনকবলিত এলাকায় তখন জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজীপুর উপজেলার সীমানা ঢেকুরিয়া থেকে বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত ‘যমুনার ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’ (রিভেটমেন্ট)-এর কাজ করা হয়। নদীর পাড় থেকে স্লোপ করে মাঝনদী বরাবর জিও চট বিছিয়ে সিসি ব্লকের গাঁথুনি দিয়ে রিভেটমেন্টের কাজ শেষ করার ফলে গত ১০ বছরে যমুনা নদীর ভাঙন অনেকটাই কমে যায়। এতে নদীতীরের মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করছিলেন।

পাউবো কর্মকর্তারা জানান, ধুনটের শিমুলবাড়ী থেকে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর পর্যন্ত ডান তীর সংরক্ষণ কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এই এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভাণ্ডারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও শিমুলবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম নান্নু মণ্ডল বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল গত দুই বছর ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার বসতবাড়ি থেকে যমুনা নদী মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যমুনার ভাঙন ঠেকানো না গেলে তার বাড়িসহ পুরো শিমুলবাড়ী গ্রামটি যমুনায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের সংবাদ পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন, গোসাইবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ ও বিআরটিএর বিভাগীয় পরিচালক মাসুদ আলমসহ অনেকেই বলেছেন, শুধু বালুবস্তা ডাম্পিং করে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়; এতে কেবল অর্থের অপচয় হবে। তারা ভাণ্ডারবাড়ী ও গোসাইবাড়ী এলাকাকে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (রিভেটমেন্ট) নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই ৬০ লাখ টাকার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করে নদীভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading