ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজ জয় টাইগারদের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজ জয় টাইগারদের

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১১:০৫

আকিল হোসেন চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখলেন না। কিন্তু প্রত্যাশা ও সামর্থ্যের এতোটাই ব্যবধান, সেটা মেটানোর সক্ষমতা তার ছিল না। সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে ক্লান্ত আকিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন তাসকিনের শিকার হলেন, তাদের স্কোরবোর্ডে রান কেবল ১০২। বাংলাদেশের দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৮.৩ ওভারেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়ানরা।

সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে আরেকবার শোনা গেল বাংলাদেশের গর্জন। যে গর্জনে ২৭ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ জিতেছে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজও।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১২৯ রান করে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনোমতে ১০২ রান করে। উইকেট আগের দিনের তুলনায় একটু ধীর গতির ছিল। বল সহজেই ব্যাটে আসছিল না। তাই শট খেলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশও টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ধুঁকছিল। শামীম হোসেন উইকেটে না আসা পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ছিল তলানীতে। ১৪.২ ওভারে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের রান তখন ৭২।

সেখান থেকে পরবর্তী ১৭ বলে শামীম দলের স্কোরবোর্ডের চিত্র পাল্টে দেন। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২০৫.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে ১৭ বলে ৩৫ রান করেন শামীম। এছাড়া আফিফের জায়গায় দলে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ২৬ রান করে মান রাখেন। জাকের আলী করেন ২০ বলে ২১ রান। বাকিরা কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেনি। দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল সৌম্য ও মাহেদী। দুজনই ১১ রানের দুটি ইনিংস খেলেন।

বাংলাদেশের সিরিজ জয় নির্ভর করছিল বোলারদের পারফরম্যান্সের উপর। মাঝারি মানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে হলে নিতে হয় উইকেট। তাসকিন, মাহেদীরা সেই কাজটাই করেন দারুণ দক্ষতা নিয়ে। স্কোরবোর্ডে ৪২ রান জমা করতেই স্বাগতিকদের ৬ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। পেসার তাসকিন তৃতীয় ওভারে দুই ওপেনারকে আউট করেন। স্পিনার মাহেদীর পরপর দুই ওভারে শিকার জনসন চার্লস ও নিকোলাস পুরান। এরপর হাসান মাহমুদ ক্যারিবীয়ান অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকে এবং তানজিম সাকিব আউট করেন রোমারিও শেফার্ডকে।

চরম বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শুরুতেই ছিটকে যায়। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি তারা। আকিল হোসেনকে সাথে নিয়ে রোস্টন চেজ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ৪৯ বলে গড়েছিলেন ৪৭ রানের জুটি। ভয় দেখানো এই জুটি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ভাঙলে বাংলাদেশের পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো কারণ ছিল না। বাকি পথটা ছিল একেবারেই মসৃণ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আকিল ৩১ রানে আউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে যায়। তার চেয়ে ১ রান বেশি করেন চেজ। বৃথা যায় তাদের প্রাণান্তকর চেষ্টা।

মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তাসকিন ছিলেন বাংলাদেশের সেরা। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মাহেদী, তানজিম ও রিশাদ। ব্যাটিংটা ঠিকঠাক না হলেও বোলিং নিয়ে বাংলাদেশ পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে। সিরিজ জয়ের ম্যাচের নায়ক হয়েছেন শামীম হোসেন। ২০ ডিসেম্বর এই মাঠেই হবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।

ইউডি/কেএস

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading