পিলখানায় হত্যাকাণ্ড: হাসিনা-মইনসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর), ২০২৪, আপডেট ২২:৩০
পনেরো বছর আগে ২০০৯ সালে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পিলখানা গণহত্যায় শহীদ সেনা অফিসারদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ জমা দেন। এসময় তৎকালীন বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ, শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী ফেরদৌসী, কর্নেল কুদরত এলাহীর ছেলে সাকিব রহমানসহ ১৫-২০ জন শহীদ পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ দাখিলের পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পর্দার আড়ালের কুশীলবদের বিচারও দাবি করেন তারা। নিহত সেনা পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তৎকালীন সেনাপ্রধানসহ অনেকেই এ ঘটনার জন্য দায়ী।
পরে শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী মেহরিম ফেরদৌসি বলেন, পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডকে বিডিআর বিদ্রোহ বলবেন না। বিদ্রোহ এ রকম হয় না। সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় অনেক সাংবাদিক শহীদদের দুর্নীতির অপবাদ দিয়েছেন। যা আমাদের জন্য লজ্জার। অথচ তারা সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। যদি দুর্নীতি করে থাকে তাহলে সেগুলোর নথিপত্র তো থাকবে। এখন আপনারা এগুলো বের করেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি।
অভিযোগকারীদের আইনজীবী উদয় তাসমীর বলেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার সামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ তার দোসররা জড়িত ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে সংকটের মুখে ফেলার জন্য এবং তার স্বৈরশাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বৃহৎ এবং শক্তিশালী বাহিনীকে ধ্বংস করতে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছি।
ইউডি/এবি

