কোটি টাকা ব্যয়ের ৩ সেতু শুধু নেই উঠার রাস্তা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১১:৪০
ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দায় বিগত সরকারের সময়ে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় প্রায় কোটি টাকা খরচ করে পরিকল্পনাহীন তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ সেতু তিনটির দুই পাশে মাটি ভরাটসহ রাস্তা না থাকায় সেগুলো উপকারে আসছে না। উল্টো সেতুর কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
জানা গেছে, সালথার ভাওয়াল ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেদাখালী খালের ওপর ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের আলমগীর মিয়ার বাড়ির সামনের পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় আরেকটি সেতু। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেতু দুটি নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
তুলোগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিব মাতুব্বর ও বকুল মোল্যা বলেন, বেদাখালী খালের ওপর সেতুটি ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দুই পাশে রাস্তা নেই। অকারণে এখানে সেতু নির্মাণ করে রাখা হয়েছে, যা আমাদের কোনো কাজে লাগে না। সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পারাপার হয়। বর্ষার পানির আসার আগে উভয় সেতুর দু’পাশে রাস্তার নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।
খারদিয়া গ্রামের আজিজল শেখ বলেন, আলমগীর মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কের পাশে সেতুটি নির্মাণের দরকার ছিল না। শুধু শুধু সরকারি টাকা অপচয় করা হয়েছে। আবার সেতুর দুই পাশে কোনো রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তা থাকলে মানুষ সেতু পার হয়ে অন্তত মাঠে যেতে পারত।
এ ব্যাপারে সালথার ইউএনও আনিছুর রহমান বালী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে সেতু দুটির দুই পাশে রাস্তার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে নগরকান্দা উপজেলা সদরের নগরকান্দা-মাঝারদিয়া সড়কের ছাগদী এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর কাজ প্রায় শেষের দিকে। সেতুর এক পাশে পাকা সড়ক সংযুক্ত থাকলেও অন্যপাশে কোনো রাস্তা নেই। আছে ফসলি জমি। এমনকি কোনো গ্রাম নেই। তাহলে কাদের চলাচলের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তা জানা নেই কারও।
নগরকান্দার ইউএনও কাফী বিন কবির বলেন, সেতুটির দক্ষিণ পাশে একটি কবরস্থান রয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য সরকারি হালটও আছে। সেতুর নির্মাণকাজ শেষে ওই হালটের ওপর রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
ইউডি/কেএস

