মধ্যপ্রাচ্য সংকট: যুদ্ধবিরতির দ্বারপ্রান্তে হামাস-ইসরায়েল
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (২২ ডিসেম্বর), ২০২৪, আপডেট ২১:০০
দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ফিলিস্তিনের এক কর্মকর্তা রোববার জানান, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির আলোচনা ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও কিছু বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে, যেগুলো সমাধান করতে হবে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো, গাজা-মিসর সীমান্তবর্তী ফিলাডেলফি করিডোর। যেখানে যুদ্ধবিরতির পরও নিজ সেনাদের রাখতে চায় ইসরায়েল। কিন্তু হামাস এর বিরোধিতা করছে। এই করিডোরের মাধ্যমে মিসর থেকে গাজায় পণ্য আসে।
ফিলিস্তিনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, গাজার সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন তৈরি করবে ইসরায়েল। যা কয়েক কিলোমিটার প্রশস্ত হবে। হামাস বা অন্য কোনো গোষ্ঠী যেন ইসরায়েলে ঢুকে পড়তে না পারে, সেজন্য বাফার জোনে সব সময় সেনা মোতায়েন রাখবে ইসরায়েল। যদি এসব বিষয়ে দু’পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়, তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিন ধাপের চুক্তি হতে পারে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে একেকজন নারী জিম্মি সেনার বিনিময়ে ২০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। যারা ইসরায়েলের কারাগারে ২৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বন্দি আছেন, তাদের মধ্য থেকে নির্ধারণ হবে কারা মুক্তি পাবেন। তবে ফাতাহর সিনিয়র নেতা মারওয়ান বারগোতির নাম এতে থাকার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইসরায়েল তাকে ছাড়তে রাজি নয়।
ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় এখনও যে ৯৬ ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬২ জন জীবিত আছেন। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতি হলে গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তবে সেখানে যেন সশস্ত্র যোদ্ধারা অস্ত্র না নিতে পারেন, সেটি পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করবে মিসর অথবা কাতারের কর্মকর্তারা। সেখানে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা যাবে। চুক্তির শেষ ধাপে ১৪ মাসের যুদ্ধ শেষ হবে। এর পর গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে গঠিত সরকার। যেটির সদস্যদের সঙ্গে হামাস বা অন্যান্য গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। আর এই সরকারের প্রতি অবশ্যই গাজার সব গোষ্ঠীর সমর্থন থাকতে হবে।
ইউডি/এবি

