বিশ্বের ১১ শতাংশ স্বর্ণের মালিক ইন্ডিয়ার নারীরা

বিশ্বের ১১ শতাংশ স্বর্ণের মালিক ইন্ডিয়ার নারীরা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১১:০০

হাজারেরও অধিক বছর ধরে ভারতের নারীদের কাছে সম্পদ, ঐতিহ্য, আভিজাত্য এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে স্বর্ণ। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইন্ডিয়ার নারীরা সঞ্চয় করে আসছেন এই সুন্দর মহামূল্যবান ধাতুটি।

সাধারণত অলঙ্কার প্রস্তুতের মাধ্যমে স্বর্ণ সঞ্চয় করেন ইন্ডিয়ার নারীরা। বছরের পর বছর ধরে এই প্রবণতার জেরে তাদের কাছে থাকা স্বর্ণের পরিমাণও রীতিমতো ফুলে-ফেঁপে উঠছে। স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী বৈশ্বিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইন্ডিয়ার নারীরা সামষ্টিকভাবে এই মুহূর্তে প্রায় ২৪ হাজার টন স্বর্ণের মালিক, শতকরা হিসেবে যা বিশ্বের মোট স্বর্ণের ১১ শতাংশ।

এমনকি বিশ্বের অনেক শিল্পোন্নত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টেও এত পরিমাণ স্বর্ণ নেই। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে রয়েছে ৮ হাজার টন স্বর্ণ, জার্মানির রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ৩০০ টন স্বর্ণ এবং ইতালি, ফ্রান্স ও রাশিয়ার রিজার্ভে রয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৫০ টন, ২ হাজার ৪০০ টন এবং ১ হাজার ৯০০ টন স্বর্ণ।

বিশ্বের শিল্পোন্নত এই ৫ দেশের রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের মোট পরিমাণ ১৮ হাজার ৫০ টন। অর্থাৎ, ইন্ডিয়ার নারীদের কাছে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ পৃথকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও রাশিয়ার চেয়ে বেশি তো বটেই উপরন্তু এই ৫ দেশের রিজার্ভে মোট যে পরিমাণ সঞ্চিত স্বর্ণ রয়েছে— তার চেয়েও প্রায় ৬ হাজার টন বেশি।

শুধু তাই নয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের মোট পরিমাণের থেকেই বেশি স্বর্ণের মালিক ইন্ডিয়ার নারীরা।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিবৃতি অনুসারে, স্বর্ণ সঞ্চয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ইন্ডিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নারীরা। এই ২৮ হাজার টন স্বর্ণের ৪০ শতাংশই রয়েছে তাদের দখলে। কেবল তামিলনাড়ুর নারীদের কাছেই রয়েছে ২৮ শতাংশ স্বর্ণ।

ইন্ডিয়ার আইন অনুসারে, কোনো নারীর যদি ৫০০ গ্রামের বেশি স্বর্ণ থাকে— শুধু তাহলেই তার সঞ্চিত স্বর্ণের ওপর কর প্রজোয্য হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১০০ গ্রাম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading