শ্রমিক সংকটে বেশি মজুরি গুনছেন কৃষকরা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১১:০০
কৃষিপ্রধান এক ফসলি হাওরাঞ্চলের প্রধান ফসল বোরোর মৌসুম শুরু হয় আমনের মৌসুম শেষ হওয়ার পর। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান রোপণে প্রস্তুতি শুরু হয় বাংলা কার্তিক (অক্টোবর—নভেম্বর) মাস থেকে এবং ধান কাটা চলে বৈশাখ—জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল—জুন) মাস পর্যন্ত। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে বছরের প্রধান ফসল বোরো ধানের আবাদ।
প্রতিদিনই তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো আবাদ করতে গিয়ে অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকদের। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। এছাড়া সার ও বীজসহ সব প্রকার কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাষাবাদ ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি কৃষকদের।
এদিকে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ। চলবে আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। কিন্তু শ্রমিক সংকট থাকায় এবার সময়মতো বোরো আবাদ নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা বীজতলা থেকে বোরো চারা উত্তোলন করে চাক বেঁধে মাথায় করে ফসলের মাঠে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার চারা রোপণের জন্য মই দিয়ে জমির উঁচু নিচু সমান করছেন। অনেকে জমিতে চারা রোপণের জন্য হাল চাষ করে জমি প্রস্তুত করছেন। গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে পানি। কোথাও একা আবার কোথাও দলবদ্ধ হয়ে কৃষকদেরকে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে দেখা গেছে।
উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বংশীকুণ্ডা গ্রামের কৃষক এবিএম জুয়েল তালুকদার বলেন, ভালোভাবেই বোরো ধানের আবাদ চলছে। তবে সব রকম কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার চাষাবাদ ব্যয় অনেকটা বাড়ছে।
একই ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের কৃষক আমানু উল্লাহ বলেন, আমাদের এখানে পুরোদমে বোরো আবাদ চলছে। এখানকার বোরো ফসল নির্ভর করে ফসলরক্ষা বাঁধগুলোর উপর। বাঁধগুলোর সংস্কার কাজ সময় মতো সম্পন্ন হলে আগাম বন্যার কবল থেকে কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান রক্ষা করা সম্ভব। নতুবা আগাম বন্যা দেখা দিলে ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।
উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের সাজদাপুর গ্রামের কৃষক এনামুল হক এনাম বলেন, প্রতি বছর ফসল উৎপাদনের সময় ধানের দাম কমে যায়। এতে উৎপাদন খরচ উঠাতেই হিমশিত খেতে হয়। ফলে ঋণের বোঝা বাড়ে। এখন আবার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছর ৫০০ টাকার শ্রমিক পাওয়া যেতো, বর্তমানে দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই মুজরি মাঝেমধ্যে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যায় না। এছাড়া বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রতি একর জমিতে সেচের খরচও বেড়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয় পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে। ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, মধ্যনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে এ বছর ১৩ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৪০০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে দুই কেজি করে হাইব্রিড চাল বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বছর বোরো আবাদে কৃষকদের তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ইউডি/কেএস

