তৈরি হচ্ছে গণ অভ্যুত্থান অধিদফতর, কার্যক্রম শুরু ফেব্রুয়ারি থেকে

তৈরি হচ্ছে গণ অভ্যুত্থান অধিদফতর, কার্যক্রম শুরু ফেব্রুয়ারি থেকে

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৯:১০

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণ অভ্যুত্থান অধিদফতর তৈরি হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করবে। এর মাধ্যমে অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে সাহায্য ও তাদের পুনর্বাসনে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রেলভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান বিষয়ক ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা নাহিদ এমন তথ্য জানান।

অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে তিনি জানান, শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী ৮২৬ জন শহীদ ও প্রায় ১১০০০ আহত। এই তালিকা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ হবে। আগামী সপ্তাহেই প্রাথমিক তালিকা নিয়ে একটা গেজেট প্রকাশিত হবে। এ তালিকা ধরেই আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, পর্যায়ক্রমে শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ ও আহতদের ক্যাটাগরি ওয়াইজ ৫, ৩, ২, ১ লাখ দেয়া হবে। জানুয়ারি মাসে ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আগামী সপ্তাহ থেকে দেয়া শুরু করব। বাকি টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেয়া হবে। প্রথমে শহীদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা (সঞ্চয়পত্র আকারে), আহতদের ক্যাটাগরি অনুসারে নগদ ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ করে টাকা দেয়া হবে।

সামনের অর্থবছরে মাসিক ভাতা পাবে শহীদ পরিবার, আর গুরুতর আহতরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যে হেলথ কার্ড পাবেন আহতরা। এ মাসে বিদেশ যাবেন আরও ২১ জন আর ২০০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, আমরা তালিকার বিষয়ে খুবই সতর্ক, তাই সময় লাগছে। যাতে পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাঝামাঝি সময়ে যারা আহত হয়েছেন, তাদের ব্যক্তিগতভাবে অনেক খরচ হয়েছে। সেই খরচও গণ অভ্যুত্থান সেল থেকে দেয়া হবে। তবে উপযুক্ত কাগজ নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সরকারি জায়গা থেকে আহত ও নিহতদের পরিবার যাতে এখন ও পরবর্তী সময়েও সুবিধা পায় সেই ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানান জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক।

অনুষ্ঠানে কথা বলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী স্নিগ্ধ। তিনি বলেন, তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন, তারা ৩১ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। নিখোঁজ যারা আছেন, তাদের তালিকা আমরা সংগ্রহ করছি। তাদের মৃত্যুর খবর পেলে আমরা তাদের শহীদদের কাতারে লিপিবদ্ধ করছি। কবরের সন্ধান যেগুলোর পাওয়া যায়নি সেগুলো অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমরা কাজ করছি। রায়ের বাজার কবরস্থানে ১৩১টি বেওয়ারিশ কবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading