ঋণখেলাপিরা যাতে মনোনয়ন না পান, চেষ্টা করা হবে: মির্জা ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (১৮ জানুয়ারি), ২০২৪, আপডেট ২১:২০
ঋণখেলাপিরা যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পান, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ঋণখেলাপিরা যাতে মনোনয়ন না পান, সে বিষয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন তারা।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ‘শ্বেতপত্র এবং অতঃপর: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও বাজেট’ শীর্ষক দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের শেষ পর্বে এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪।
সিম্পোজিয়ামের শেষ পর্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালক ছিলেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে প্রথমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এরপর মির্জা ফখরুল বক্তব্য দেন। পরে তিনি দর্শকসারি থেকে আসা বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দেন।
এর মধ্যে মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে রেহমান সোবহান জানতে চান, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনের আগমুহূর্তে ৫ শতাংশ পরিশোধ করে ভোটে অংশ নেন, বিএনপি এ বিষয়ে কী করবে। জবাবে মির্জা ফখরুল ঋণখেলাপিরা যাতে ভোটে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে চেষ্টা চালাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা অসম্ভব। এ জন্য নির্বাচনের ঘোষণাটা তাড়াতাড়ি দরকার। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে যাওয়া সম্ভব। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। বিগত ১৬ বছর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চেষ্টা হয়নি। আবার চেষ্টাটা চালু করতে হবে।
ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়—ফখরুলের এমন বক্তব্যকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে মনে করেন রেহমান সোবহান। তিনি মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে বলেন, ছয় মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ করার দাবি তাড়াহুড়া হয় কি না? জবাবে মির্জা ফখরুল হাসতে হাসতে বলেন, ‘এটা আমাদের দলীয় কৌশল (স্ট্র্যাটেজি)।’
অর্থ পাচারকারীদের আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়টি প্রশ্নে উঠে এসেছে। জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সন্দেহ একেবারে অমূলক নয়। তারা যাতে নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ইউডি/এবি

