ট্রাম্পের ‘অন্যায়’ প্রস্তাবে না বলতে কী পারবে ইউক্রেন?

ট্রাম্পের ‘অন্যায়’ প্রস্তাবে না বলতে কী পারবে ইউক্রেন?

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৭:৫৭

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইউক্রেনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা জটিল রূপ নিয়েছে। আমেরিকা দাবি করছে, দেশটি যে সহায়তা দিয়েছে, তার বিনিময়ে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, বন্দর ও অন্যান্য শিল্পখাত থেকে অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ হস্তান্তর করতে হবে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কিয়েভে এক বক্তব্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই শর্তকে ‘অন্যায়’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিতে সামরিক সহায়তার নিশ্চয়তা না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা জানান, এই প্রস্তাব আসলে আলোচনা নয়, বরং ‘ব্ল্যাকমেইল’।

তিন দফায় প্রস্তাব : ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ভিন্ন শর্তে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম প্রস্তাব ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে কিয়েভে উত্থাপন করা হয়, যেখানে ইউক্রেনকে এক ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সীমা দেওয়া হয়। এরপর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আরও একটি ‘উন্নত’ চুক্তির খসড়া দেওয়া হয়, যেখানে সামরিক সহায়তার উল্লেখ থাকলেও শর্তগুলো ছিল ইউক্রেনের জন্য বেশ কঠিন। সবশেষ, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আরও কঠোর একটি প্রস্তাব পান, যেখানে বলা হয় দেশটির ভবিষ্যৎ রাজস্ব আয়ের ৫০ শতাংশ একটি নতুন বিনিয়োগ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে রাখতে হবে। এই তহবিলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনের জন্য দেওয়া সহায়তার পরিমাণের সমান।

আমেরিকার চাপ, ইউক্রেনের উদ্বেগ : মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নেতৃত্বে আসা সবশেষ শর্তে বলা হয়েছে, আগের সব আলোচনার শর্ত বাতিল করতে হবে এবং ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, ট্রাম্প প্রশাসন কিয়েভকে আরও বড় চাপের মধ্যে ফেলতে পারে, এমনকি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নিতে পারে। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে বিক্রি করতে পারবেন না। তিনি বলেছেন, আমি ইউক্রেনের রক্ষা করছি, আমি আমাদের দেশকে বিক্রি করতে পারি না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যদি ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে পারে, যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কিয়েভের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে প্রস্তুত জেলেনস্কি : দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের শান্তির জন্য যদি আমাকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হয়, তবে আমি প্রস্তুত।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমার চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেন যদি ন্যাটো সদস্যপদ পায়, তবে সেটাও আমি মেনে নেব।’ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘নির্বাচনবিহীন একনায়ক’ বলে তিরস্কার করেছেন। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের সমালোচনার পরই জেলেনস্কি এই মন্তব্য করলেন। ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকার কারণে নির্বাচন নিষিদ্ধ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের পরেই সামরিক আইন জারি করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বেশির ভাগ জনগণ নির্বাচনের বিপক্ষে। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের তৃতীয় বার্ষিকীতে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই সপ্তাহে ইউক্রেন সফর করবেন বলে জানা গেছে। মাখোঁ বলেন, ‘আমি সেখানে যাচ্ছি এই বার্তা দিতে যে ফরাসি ও ইউরোপীয়দের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া অত্যন্ত সশস্ত্র এবং তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে; যা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক।’

রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা : রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই আক্রমণের তিন বছর হতে চলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের তিন বছর পূর্তিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অন্তত ১৩টি অঞ্চলে হামলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে খারকিভ, পোলতাভা, সুমি, কিয়েভ, চেরনিহিভ, মাইকোলাইভ ও ওডেসা। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাত জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার একসঙ্গে রেকর্ড ২৬৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১৩৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং ১১৯টি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ রয়েছে। তবে রাশিয়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার ফলে পাঁচটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর টেলিগ্রাম পোস্টে জানানো হয়েছে, কিয়েভসহ কয়েকটি অঞ্চল হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ড্রোন প্রতিহতের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা গেছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।

মি/গাজী

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading