শেরপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযোগ দলের আরেক নেতার বিরুদ্ধে
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৯:২০
“সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে জাকারিয়া বাদলের দ্বন্দ্ব চলছিল।”
শেরপুর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ৪৭ বছর বয়সী জাকারিয়া বাদল শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ এলাকায় মাদ্রাসার সামনে তার ওপর হামলা হয়। এতে জাকারিয়াসহ তিনজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে বাকি দুজন হলেন- সোহাগ আলম (৩৫) ও রুহুল (২৮)। এর মধ্যে গুরুতর আহত সোহাগকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত জাকারিয়া বাদলের স্বজন ও ছাত্রদল কর্মী রমজান আলী বলেন, “সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে জাকারিয়া বাদলের দ্বন্দ্ব চলছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই দুই নেতার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। আবার হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি স্থানীয় কামারিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষকলীগ নেতা নুরে আলমের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বৈরিতা অনেক আগে থেকেই।
“বাদলকে দমন করতে সম্প্রতি শেরপুর জেলা কারাগারে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলমের সঙ্গে সাক্ষাত করেন লুৎফর। ওই দুজন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিপক্ষ বাদলকে দমানোর পরিকল্পনা করেন।”
রমজান বলেন, “মঙ্গলবার বিকালে বাদলসহ তিনজন একই মোটরসাইকেলে করে ভীমগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা নুরে আলম ও লুৎফরের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। ওইসময় বাদলসহ তিনজনকে লক্ষ্য করে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
“পরে স্থনীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে বাদল ও সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আর বাদলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”
এ বিষয়ে জানতে কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শেরপুর সদর থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম বলেন, “বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ মঙ্গলবার ওই ঘটনার পর থেকে হামলাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রয়েছে।”
লাশ শেরপুর আসার পর জানাজার ও দাফনের পর এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ইউডি/এআর

