মসজিদে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীর
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৫ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:২০
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ইফতার করতে মসজিদে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল চাপায় বাপ্পী (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মানশ্রী বাজারের পাশে ছেঁছরাখালী-মোহনগঞ্জ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে রাত দেড়টার দিকে বাপ্পীর মৃত্যু হয়। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে নিজ গ্রামে বাপ্পীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাপ্পী মানশ্রী গ্রামের হাবলু মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। হাবলু মিয়ার এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল বাপ্পী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পী নিয়মিত নামাজ পড়ত ও রোজা রাখত। রমজানে প্রতিদিন গ্রামের পাঞ্জেখানা মসজিদে ইফতার খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করত বাপ্পী। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদের দিকে যাচ্ছিল বাপ্পী। মসজিদের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় এক দ্রুতগামী মোটরসাইকেল বাপ্পীকে পেছন থেকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারায় সে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাপ্পীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতেই মমেক হাসাপাতালে নিয়ে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বাপ্পীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে ঢামেক নিয়ে যাওয়ার পথে রাত দেড়টায় বাপ্পীর মৃত্যু হয়। বুধবার দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাপ্পীকে দাফন করা হয়।
বাপ্পীর চাচা মীর্জা রুবেল আহমেদ ঝুটন বলেন, বাপ্পী বয়সে ছোট হলেও নিয়মিত নামাজ আদায় করতো, রোজা রাখতো। খুবই ভালো ছেলে ছিল। মঙ্গলবার ইফতারের একটু আগে বাড়ি থেকে ও মসজিদে যাচ্ছিল। মসজিদের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় পেছন থেকে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল চাপা দেয় তাকে। এতে বাপ্পীর মৃত্যু হয়। রোজাদার শিশু বাপ্পীর হত্যাকারীর সাজা হোক, এটাই চাই।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউডি/আরকে

