ভোটার তালিকা হালনাগাদে কিসের শঙ্কা দেখছে ইসি!
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৪:০০
#অনলাইনে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা নির্বাচন অফিসে গিয়েও ভোটার হওয়া যাবে।
#কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে থাকলে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ভোটার তালিকার চলমান হালনাগাদ কার্যক্রমে ১৬ লাখেরও বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় যোগ করতে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫৩ লাখ নাগরিকের তথ্য। সম্প্রতি মাঠপর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য একীভূত করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি করা প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবার অনেক তথ্য সংগ্রহকারী বাড়ি বাড়ি যাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ এটা।
সূত্র আরও জানায়, ভোটার তালিকা করার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা হস্তক্ষেপ করে থাকেন। নানান ধরনের প্রভাব বিস্তার করে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিকেও ভোটার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ প্রয়োগ করেন। আর কমিশনের নিয়োজিত মাঠকর্মীদের অনেক সময় সেই প্রভাবের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হয়। ফলে রাজনৈতিক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রভাবকে নির্ভুল ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কোনোভাবেই যাতে এ কাজে সম্পৃক্ত করা না হয় মাঠ পর্যায়ে সেই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নেবেন নির্বাচন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও মাঠ কর্মকর্তারা।
যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তারও আগে এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নে স্থানান্তরিত ও ভাসমান ভোটারদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের শঙ্কাও করছে। ফলে হালনাগাদ কার্যক্রমে রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
ইসির লক্ষ্য ছিল, বিদ্যমান ভোটারের ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৫ জনকে ভোটারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা। আর ফরম পূরণ করেছেন ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৩৭ জন। মৃত ভোটার কর্তনের ফরমও পূরণ করা হয়েছে কম। ২০২২ সালে ২২ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম কর্তন করা হয়েছিল। এ বছর কর্তনের জন্য ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৩টি ফরম পূরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হওয়ার পরদিন এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন বলেন, কতটা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কম হলে সমস্যা কী ছিল, তা পর্যালোচনা করা হবে। আমরা বাড়ি বাড়ি যেতে পেরেছি কি না, না পেরে থাকলে কী সীমাবদ্ধতা ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তথ্য সংগ্রহকারীরা অনেক বাড়িতেই গিয়েছেন, কাউকে না পেলে ফোন নম্বর দিয়ে এসেছেন ৷ তবে আমরা যেখানে যেতে পারিনি, সেটা নিয়ে সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সমস্যার সমাধানের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ সভায় বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) পক্ষ থেকে যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে এবং দ্রততম সময়ে তা মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।
জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি এবং ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ছবি তুলে নিবন্ধন সম্পন্ন করার কাজ যা চলবে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। চলিত বছরের ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন(ইসি)। সে অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। যেখানে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬১হাজার ৬১৫ জন। মহিলা ৬ কোটি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৫ জন; এবং ৯৯৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। তবে চললাম বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম জুনে শেষ হলে আরও একটি ভোটার তালিক করবে সাংবিধানিক এ সংস্থটি।
২০০৭-০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হয়। এরপর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে ছয়বার। ২০০৯-১০, ২০১২-১৩, ২০১৫-১৬, ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ ও ২০২২-২৩ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসি।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি না গেলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, বাদ পড়া ভোটাররা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনকেন্দ্রে গিয়ে ভোটার হতে পারবেন। এ ছাড়া অনলাইনে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা নির্বাচন অফিসে গিয়েও ভোটার হওয়া যাবে। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে থাকলে কারণ জানার চেষ্টা করব। পর্যালোচনা করে অবহেলা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি/আরকে

