বসন্ত বাতাসে মুকুলের ঘ্রাণে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

বসন্ত বাতাসে মুকুলের ঘ্রাণে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৪:৫০

আমের রাজ্য রাজশাহীতে ফলের বাগানগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে। জেগেছে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অপার সম্ভাবনা। গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে জোর প্রস্তুতি নিয়েছেন চাষি, বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষভাবে আম বাগানিরা পরিচর্যায় নেমেছেন জোরেসোরে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বড় প্রভাব না পড়লে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিবছর মোট ৪৪ রকমের ফল চাষ হয়। এরমধ্যে আম সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার জেলায় আনারস চাষ হয়নি। যদিও জাতীয় ফল কাঁঠালসদৃশ ডেউয়া ফল চাষ হয়েছে দশমিক ১ হেক্টর জমিতে। তবে গত বছর জেলার ৯ উপজেলা ও মহানগরে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৫৩৫ হেক্টর বাগানে লক্ষণভোগ আম চাষ হয়। জেলাজুড়ে মোট আম উৎপাদন হয় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন। তবে চলতি অর্থবছরে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর আমবাগান রয়েছে জেলায়। অর্থাৎ মাত্র এক হেক্টর বেশি জমিতে আমের আবাদ হচ্ছে। এসব বাগানে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন আমের ফলন হতে পারে।

কৃষি বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। মুকুলও এসেছে পর্যাপ্ত। যে কারণে গুটি ঝরে পড়ার শঙ্কাও কম। ফলে বাগানি ও চাষিরা বাড়তি লাভবান হতে পারবেন। তারা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মোতাবেক ইতোমধ্যে বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

জেলার বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া এলাকার আমচাষি সাগর আহমেদ আজদারের রয়েছে ১০০টি নিজস্ব আমগাছ। এছাড়াও তিনি চুক্তিতে বাগান কিনে আমের ব্যবসা করেন। কয়েক বছর ধরে লস হচ্ছিল তার। তবে এবার লস পুষিয়ে নিতে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।

আলহাজ্ব মহসিন আলী নামে আরেক আম বাগানি বলেন, ‘আমার ম্যালা বাগান, জায়গা জায়গা আছে আলাদা আলাদা। কিন্তু আমার নিজস্ব বাগান খালি এক বিঘার একটু ওপরে আছে। কিন্তু আমি বাগান কিনে ব্যবসা করি। আমের বাগান নিয়েছি ১০ বিঘা। সব গাছেই মুকুল আইছে, হয়ত ১-২ ডালে আসেনি, এরকম হয়েছে। কিন্তু সব গাছেই ম্যালা (অনেক) মুকুল দেখছি। ১০ লাখ টাকার আম দিতে পারে আল্লাহ।’

মহসিন আরও বলেন, ‘বিষ দিছি ৩ দিন আগে। লেবারের খরচ বহু ট্যাকা চলে যায়। তাও এবার বেশি লাভ হবে। ক্ষতি হলে কিছু করার নাই। ঝড় হয়, শিল পড়ে (শিলাবৃষ্টি), তাইকেনে (সেজন্য) লাভডা কম থাকে। আল্লাহ ওর মধ্যেই দেয়। তাও ৫ লাখ টাকার আম বেঁচিছি গতবার। ওষুধ, বিষ, লেবার সব দিয়ে ১ লাখ খরচ হয়েছিল; বাকি ৪ লাখ ছিল। এবার গাছে ম্যালা মুকুল দেখছি। ১০ লাখ ট্যাকার বেঁচবো আশা করছি।’

এ ব্যাপারে রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, এ বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর মুকুলের হার খুবই ভাল, পর্যাপ্ত পরিমাণে মুকুল এসেছে। এই সময়ে আমরা কৃষকদের শিডিউল স্পে করার পরামর্শ দিচ্ছি। তারা অনুমোদিত মাত্রায় স্পে করবে। যেহেতু খরা হচ্ছে, অবশ্যই গাছের গোড়ায় সেঁচ দেবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য আমাদের যে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনা আছে, সেটা অনুসরণ করে তারা কাজ করবে। আশা করছি, এ বছর আমচাষি, বাগানি ও ব্যবসায়ী সবাই লাভবান হবে।

ইউডি/আরকে

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading