বেক্সিমকোর সুকুক পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৩:৫০
বেক্সিমকোর পাঁচ বছর মেয়াদি ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক’ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পরিপক্ক হবে। তখন প্রতিষ্ঠানটিকে বিনিয়োগকারীদের প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে এখন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ গ্রুপের প্রধান রাজস্ব উৎস—টেক্সটাইল ইউনিট বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি এটির অন্যান্য আয়ের উৎসও প্রায় সীমিত; বর্তমানে সোলার পার্কই তাদের প্রধান রাজস্ব উৎস। সূত্র জানায়, কেবলমাত্র সোলার পার্কের আয় দিয়ে সুকুকের সম্পূর্ণ পরিশোধ সম্ভব নয়।
পার্কটি প্রতি মাসে গড়ে ৫০ কোটি টাকা আয় করে, যার বড় অংশ অর্ধ-বার্ষিক সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। বেক্সিমকো পরিচালনা ব্যয়ের জন্য ৭ কোটি টাকা পায়, আর বাকি অর্থ সুকুকের ‘সিংকিং ফান্ডে’ জমা হয়, যা বর্তমানে ১৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান একাধিক মামলায় কারাবন্দি। প্রতিষ্ঠানটির ঋণগ্রস্ত ব্যবসাগুলো বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে। সাভারের বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি ইউনিটের শ্রমিকদের বকেয়া মেটাতে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেক দিয়েছে।
একজন আইসিবি কর্মকর্তা জানান, সোলার পার্কের আয় থেকে বিনিয়োগকারীদের সুদ পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে সিংকিং ফান্ডে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা জমা হতো। তবে গত আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর এটি বাড়ানো হয়েছে। বেক্সিমকোর চলমান ঋণ সংকটের মধ্যে কীভাবে সুকুকের মূল অর্থ পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিশোধে ব্যর্থতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের প্রথম সবুজ সুকুকের জন্যও অশনিসংকেত।
মূলধন সংগ্রহ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২১ সালে বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের মাধ্যমে তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে বেক্সিমকো লিমিটেড। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা আসে ব্যক্তিগত উৎস থেকে, ৭৫০ কোটি টাকা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে এবং বাকি ৭৫০ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে তোলা হয়।
বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের ১০০ শতাংশ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৯০ কোটি টাকা মূল্যমানের ১ কোটি ৯০ লাখ ইউনিট শেয়ারে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যদি আর কোনো রূপান্তর না হয়, তাহলে অবশিষ্ট দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পরিশোধ করতে হবে।
ইউডি/আরকে

